কুষ্টিয়ায় কোমর থেকে অস্ত্র বের করে দোকানের শাটারে লাথি, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল
রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ২:০৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কোমর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে এক যুবকের দোকানের শাটারে লাথি মারার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। পরকীয়া সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক পলাতক রয়েছে এবং পুলিশ তাকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ময়রামপুর নতুন পাকুড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত যুবকের নাম রিপন হোসেন (৩০)। তিনি স্থানীয় গোলাম হোসেনের ছেলে। চার মিনিট ৫১ সেকেন্ডের ওই সিসিটিভি ফুটেজটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিপনের বড় ভাই সোহেল দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে সোহেলের স্ত্রী নাছরিন খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার ইলেকট্রিক মিস্ত্রি শামীম হোসেনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে শামীম ও নাছরিন বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চরম বিরোধ উঠানামা করছিল।
সম্প্রতি প্রবাসী সোহেল দেশে ফিরে এলে পুরোনো সেই ক্ষোভ ও উত্তেজনা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এর জের ধরে গত শুক্রবার বিকেলে রিপন হোসেন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শামীমকে মারার উদ্দেশ্যে তার দোকানের সামনে যান। কিন্তু সেখানে শামীমকে না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রিপন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রিপন কোমর থেকে একটি পিস্তল জাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র বের করে সেটি লোড করেন। এরপর অত্যন্ত ক্রুদ্ধ অবস্থায় বন্ধ দোকানের শাটারে কয়েকবার সজোরে লাথি মারেন। সে সময় আশপাশের লোকজন জড়ো হতে থাকলে তিনি অস্ত্রটি লুকিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। সেখানে এক যুবককে অস্ত্র সদৃশ কিছু একটা হাতে নিয়ে দোকানের শাটারে লাথি মারতে দেখা গেছে। তবে সেটি আসল আগ্নেয়াস্ত্র নাকি নকল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ওসি আরও জানান, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশের একটি বিশেষ দল মাঠে কাজ করছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রিপন পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার এবং অস্ত্রটি উদ্ধারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১২১ বার পড়া হয়েছে