শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে রেকর্ড ৭০ লাখ টাকা ও ১৯ দেশের মুদ্রা
রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ২:৩৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেটের আধ্যাত্মিক রাজধানীখ্যাত হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স খুলে এবার রেকর্ড ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া গেছে। নগদ টাকার পাশাপাশি দানবাক্সগুলোতে বিপুল পরিমাণ সোনা-রুপা এবং বিশ্বের ১৯টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও জমা পড়েছে। জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে দিনভর কঠোর নিরাপত্তায় এই গণনা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি বড় দানবাক্স ও তিনটি মানতের ডেগ থেকে পাওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ ও অলংকার গণনার কাজ শেষ হয়েছে। এক মাস চার দিন পর শনিবার (১০ আগস্ট) সকালে এগুলো খোলার পর প্রায় ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী দিনভর গণনা কার্যক্রম চালান। বিকেল নাগাদ সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হিসাব ঘোষণা করেন।
সিসিক প্রশাসক জানান, দানবাক্সগুলো থেকে নগদ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা ছাড়াও ২ ভরি ১ রতি সোনা এবং ১ ভরি ২ আনা রুপা পাওয়া গেছে। এছাড়াও বিশ্বের ১৯টি দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে যার মধ্যে ব্রিটিশ পাউন্ড, ভারতীয় রুপি, মার্কিন ডলার, সৌদি রিয়াল, জাপানি ইয়েন ও তুর্কি লিরা উল্লেখযোগ্য।
জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই গণনা কার্যক্রম শুরু হয় সকাল ১০টায়। ভক্তদের দেওয়া গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগির মতো নজরানাও মাজারের ফান্ডে সংগৃহীত হয়েছে। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এটি ছিল মাজারের দানবাক্স গণনার তৃতীয় পর্যায়।
মাজারের আয়ের স্বচ্ছতা বাড়াতে গত জুন মাস থেকে প্রশাসনের অধীনে এই গণনা শুরু হয়। এর আগে প্রথম দফায় ২২ জুন ১৭ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ১১ জুলাই ৪৭ লাখ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এবারই সর্বোচ্চ অর্থ জমা পড়েছে মাজারের সিন্দুকে।
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা আনতে একটি স্থায়ী নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সিসিক প্রশাসক। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি দ্রুত এই নীতিমালা চূড়ান্ত করবে, যার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে মাজারের সব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে।
১২৯ বার পড়া হয়েছে