অর্থ পেতে শিক্ষকদের আর ভোগান্তিতে পড়তে হবে না : প্রধানমন্ত্রী
শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ৮:৫৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সুবিধাভোগীদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই দিনে আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন করেন তিনি।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের পাওনা পরিশোধে এককালীন ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। দেশের ৬৪ জেলায় সুবিধাভোগীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে এই অর্থ পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে ১ লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এ সুবিধার আওতায় আসছেন।
শনিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবসর ভাতার অর্থ পেতে শিক্ষকদের আর ভোগান্তিতে পড়তে হবে না। মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভর করার প্রয়োজনও থাকবে না। সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পরিশোধে অর্থসংকট ও আবেদন জটিলতা ছিল। নতুন উদ্যোগে iBAS++ ব্যবস্থার মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি অর্থ পাঠানো হচ্ছে। এতে অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা অবসরে গেলেও সমাজ ও জাতি গঠনে তাঁদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাই অবসরকালীন আর্থিক সুবিধা যথাসময়ে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নতুন ভবন উদ্বোধন
এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের নবনির্মিত ১৫ তলা ভবন-২ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। নতুন ভবনটিতে ৫০০ শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। এর ফলে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা আরও বাড়বে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর স্বজন—এই তিন পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতির সম্পর্ক থাকা জরুরি। চিকিৎসকেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে কিংবা রোগী ও স্বজনেরা চিকিৎসকদের ওপর আস্থা হারালে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নয়। উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ, সুশাসন ও সময়োপযোগী নীতির সমন্বয়ে সবার জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে আধুনিক রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট প্রতিষ্ঠা এবং পর্যায়ক্রমে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়নে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় ২০০ শয্যার পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। আগামী অক্টোবর মাসে হাসপাতালগুলো চালুর লক্ষ্য রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।
নতুন নিউরোসায়েন্স ভবনে স্ট্রোক, এপিলেপসি, পারকিনসন্স, ডিমেনশিয়া ও মেরুদণ্ডের জটিল রোগের চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়বে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার ও রোগ নির্ণয়ের সুবিধার পাশাপাশি চিকিৎসা গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও ভবনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১২৩ বার পড়া হয়েছে