রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলের প্রার্থী অলি আহমদ
রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬ ৯:০২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রোববার বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলীয় জোটের বৈঠকে একজন যৌথ প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। জোটের পক্ষ থেকে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা ছিল। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
নাহিদ ইসলামের ভাষ্য, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হবে—এমন প্রত্যাশা ছিল। তবে সরকার সংস্কার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, জুলাই-পরবর্তী সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া সদস্যদের নিয়ে কার্যকরভাবে অধিবেশন করা হয়নি। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণের অভিযোগও তোলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপির গত ১৬ বছরের আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করা। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে সংস্কার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই তারা জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রপতিকে আগাম অব্যাহতি দেওয়া হবে কি না এবং ভবিষ্যতে তাঁকে বিচার বা জবাবদিহির আওতায় আনা হবে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন রয়েছে। এই মেয়াদ বাড়ানোর পেছনে কোনো বিশেষ পরিকল্পনা আছে কি না, সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরের সময়ে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী হবে, বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ও দায়িত্ব কীভাবে নির্ধারিত হবে—তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব প্রশ্নের সমাধান না হলে ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলের অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত বা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা দেখা গেছে। এ বিষয়গুলো নিয়েও ১১ দলের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
অলি আহমদকে প্রার্থী করার কারণ ব্যাখ্যা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একাধিকবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের সময়ে তিনি রাষ্ট্রপতি হলে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে পারবেন বলে ১১ দল মনে করে।
নাহিদ ইসলাম এ সময় বিএনপিরও সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি এখন পর্যন্ত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেনি। এর ফলে সর্বসম্মতভাবে একজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যে সুযোগ ছিল, তা নষ্ট হয়েছে। বিএনপির একদলীয় ও সংস্কারবিরোধী অবস্থানের কারণে দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
১১ দলের পক্ষ থেকে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার সিদ্ধান্তকে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার একটি উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম।
১৩১ বার পড়া হয়েছে