এক মায়ের অনুরোধে আইভিএসিতে শিশুদের জন্য ‘চিলড্রেনস কর্নার’
রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬ ১০:১৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (আইভিএসি) ভিসা আবেদনকারীদের শিশুদের জন্য চালু হয়েছে নিরাপদ ও আধুনিক ‘চিলড্রেনস কর্নার’। এক মায়ের অনুরোধের পর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই শিশু বিনোদনকেন্দ্রটি চালু করা হয়।
রোববার (৯ আগস্ট) ওই মা ও তাঁর সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে চিলড্রেনস কর্নারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
সম্প্রতি আইভিএসি পরিদর্শনের সময় এক মা হাইকমিশনারের কাছে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ খেলার জায়গা তৈরির অনুরোধ জানান। তাঁর যুক্তি ছিল, ভিসা আবেদনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় প্রাপ্তবয়স্কদের অপেক্ষা করতে হলেও শিশুদের জন্য সময় কাটানোর উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
ওই অনুরোধকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আইভিএসিতে শিশুদের জন্য এই বিশেষ স্থান প্রস্তুত করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভিসা প্রত্যাশীরা লাইনে অপেক্ষা করার সময় শিশুদের জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গার প্রয়োজনীয়তার কথা এক মা তাঁকে জানিয়েছিলেন। পরামর্শটি তাঁর ভালো লাগে এবং তিনি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
তিনি বলেন, প্রাপ্তবয়স্করা ভিসার জন্য অপেক্ষা করার সময় শিশুদের জন্য একটি খেলার জায়গা থাকা প্রয়োজন। একজন নারীর দেওয়া এই পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
হাইকমিশনার জানান, নারী, শিশু ও চিকিৎসা ভিসার আবেদনকারীদের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতে আরও সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করার কাজ করা হবে। এর লক্ষ্য ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছন্দ ও ঝামেলামুক্ত করা।
দীনেশ ত্রিবেদীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের উদ্যোগকে শুধু একটি ছোট সেবামূলক সংযোজন হিসেবে দেখলে হবে না। সাধারণ মানুষের প্রয়োজন ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে জনমুখী কূটনীতির একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ও বন্ধন—এ কথাও তিনি তুলে ধরেন।
চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রায় দুই বছরের বিরতির পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় পর্যটক ভিসা আবার চালুর ঘোষণা আসে। এরপর ভিসা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে আবেদনকারীদের সুবিধার্থে আইভিএসিতে শিশুদের জন্য এই নতুন ব্যবস্থা চালু করা হলো।
এর আগে জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছিল, বিভিন্ন প্রয়োজনে ভারতে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে পাওয়া ব্যাপক সাড়া তাদের উৎসাহিত করেছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার এবং বিদ্যমান বন্ধুত্ব আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতিও জানিয়েছিল হাইকমিশন।
একজন সাধারণ মায়ের দেওয়া একটি পরামর্শ দ্রুত বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে আইভিএসির এই উদ্যোগ ভিসা আবেদনকারীদের অভিজ্ঞতা আরও স্বস্তিদায়ক করার একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
১১৮ বার পড়া হয়েছে