সর্বশেষ

সারাদেশ

রামু ট্র্যাজেডির ১৪ বছর, এখনো শেষ হয়নি বিচার

আহসান সুমন, কক্সবাজার 
আহসান সুমন, কক্সবাজার 

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৪৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কক্সবাজারের বহুল আলোচিত রামু ট্র্যাজেডির ১৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর উত্তম বড়ুয়া নামের এক যুবকের ফেসবুক আইডি থেকে পবিত্র কোরআন শরিফ অবমাননার ছবি পোস্টের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রামু, উখিয়া ও টেকনাফে বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় শত বছরের ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি। ঘটনার ১৪ বছর পরও শেষ হয়নি মামলাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া। এর মধ্যে উখিয়ার চারটি মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর।

২০১২ সালের ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বরের ওই হামলায় রামুর ১২টি বৌদ্ধ বিহার ও ৩০টি বসতঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। একই সময়ে উখিয়া-টেকনাফের সাতটি বৌদ্ধ বিহার ও ১১টি বসতঘরেও হামলা চালানো হয়। এছাড়া আরও ছয়টি বৌদ্ধ বিহার ও শতাধিক বসতঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ বিহার ও বসতঘরগুলো পুনর্নির্মাণ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ফিরে এলেও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে সংশয় ও ধোঁয়াশা কাটেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা।

তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৪ বছরেও মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হয়নি। দ্রুত বিচার শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে পুনঃতদন্তের দাবিও জানিয়েছেন অনেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে হামলার ঘটনায় মোট ২০টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে বাদীর সম্মতিতে একটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে বাকি মামলাগুলোর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

রামু, উখিয়া ও টেকনাফে সহিংসতার ঘটনায় এজাহারভুক্ত ৩৭৮ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ হাজার ১৮২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এসব মামলায় ৯৩৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট মো. ইউনুছ জানান, এ ঘটনায় দায়ের করা ১৮টি মামলার মধ্যে ১১টির সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান রয়েছে। উখিয়ায় চারটি মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। অন্য তিনটি মামলার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানা যায়নি।

বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা বলছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলা প্রতিরোধে রামুর বৌদ্ধ বিহারগুলোতে সরকারি নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, ঘটনার বিচার দ্রুত শেষ হলে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তাও দূর হবে।

এদিকে ২০১২ সালের ভয়াবহ হামলার দিনটি স্মরণে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে রামু বুড্ডিস্ট সোশ্যাল মুভমেন্ট বাংলাদেশ। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বুদ্ধ উপাসনা, পতাকা উত্তোলন, অষ্টশীল গ্রহণ, চিত্রাঙ্কন ও চিত্র প্রদর্শনী এবং চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী।

১০৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০