নরসিংদীর চরাঞ্চলে চা-দোকানের সামনে যুবককে গুলি করে হত্যা
শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬ ৩:৫০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নরসিংদী সদরের দুর্গম চরাঞ্চল আলোকবালীতে সুমন মিয়া (২৩) নামে এক যুবককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাতে বাখন নগর এলাকায় এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
নিহত সুমন মিয়া বাখন নগর গ্রামের বাতেন মিয়ার ছেলে। স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় সুমন তাঁর বোন সোনিয়ার সাথে বাড়ির কাছে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ওই সময় ১০ থেকে ১৫ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাঁকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় বাখননগর বাজারের একটি চা-দোকানের সামনে নিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে कर्तव्यরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ভাইয়ের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়েন সুমনের বোন সোনিয়া। তিনি জানান, সুমনের কয়েকদিন পরই বিদেশে যাওয়ার কথা ছিল এবং তাঁর স্ত্রী বর্তমানে গর্ভবতী। কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও হাবি, মিটুল, মঈনুদ্দিন ও কালা নামের স্থানীয় কিছু ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলোকবালী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, অবৈধ বালু ব্যবসা ও জমি দখল নিয়ে আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. নজরুল ইসলাম এবং বর্তমান আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম মিয়ার অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর আগে একই দিন বিকেলে সদর উপজেলার বড় বাজার থেকে নৌকাঘাটে যাওয়ার পথে নজরুল ইসলামের ওপর প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, স্থানীয় দ্বন্দের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এই ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
১৬০ বার পড়া হয়েছে