সর্বশেষ

জাতীয়

হাইকোর্টের রায় অমান্য: মাউশি সচিব ও ডিজিসহ ৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ

শামীম বিন সাত্তার
শামীম বিন সাত্তার

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৩:৩৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে এক শিক্ষকের বকেয়াসহ এমপিও সুবিধা না দেওয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) বিভাগের সচিব ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ঝিনাইদহের শৈলকুপা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমানের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী এই নোটিশ পাঠান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রায় বাস্তবায়ন না করায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ঝিনাইদহের শৈলকুপা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান বকেয়াসহ এমপিও সুবিধা পাওয়ার দাবিতে মহামান্য হাইকোর্টে ১১০৭৩/২৩ নম্বর রিট মামলা দায়ের করেন। মামলার শুনানি শেষে আদালত এক মাসের মধ্যে বকেয়াসহ এমপিও দেওয়ার জন্য মাউশি অধিদপ্তরকে নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের এই আদেশের পর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর গত ২৪ জুন ২০২৫ তারিখে এক স্মারকের মাধ্যমে এমপিও প্রদানের পক্ষে ইতিবাচক মতামত প্রদান করে।

আদালতের নির্দেশনা ও অধিদপ্তরের মতামতের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান অনলাইনে এমপিওর জন্য আবেদন করেন। আবেদনটি খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক (ডিডি) মোঃ কামরুজ্জামান চার থেকে পাঁচবার অনুমোদন করলেও প্রোগ্রামার জহির উদ্দিন কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বারবার সেটি ফেরত (সেন্ডব্যাক) পাঠান। এই কর্মকাণ্ড সরাসরি আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘনের শামিল বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত অনিয়মের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা শাখা থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে মাউশি অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন মাস পর গত ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তের দায়িত্বে দেওয়া হয় শারীরিক শিক্ষার উপ-পরিচালক অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমানকে। তদন্ত শুরু হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা নিজেদের বাঁচাতে বিভিন্ন অপতৎপরতা শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এমপিও নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ভুক্তভোগী শিক্ষক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এর প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের এমপিও শাখা থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মহাপরিচালককে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযুক্তদের রক্ষা করতে মাউশি অধিদপ্তরের সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন আইন শাখায় নথি না পাঠিয়ে তড়িঘড়ি করে এমপিও কমিটিতে উপস্থাপন করেন এবং আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করান।

আইনজীবীদের মতে, প্রশাসনিকভাবে কোনো ফাইল অনুমোদন হওয়ার পর তার অধীনস্থ কমিটির নেতিবাচক সিদ্ধান্ত আইনত প্রশ্নবিদ্ধ। বর্তমানে উক্ত এমপিও আবেদনটি খুলনা ডিডির আইডিতে পেন্ডিং অবস্থায় রয়েছে। আদালতের রায় এবং মাউশির আগের সিদ্ধান্ত এখনো বহাল থাকায় অবিলম্বে এটি অনুমোদন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আদালত অবমাননার আইনি দায় থেকে রেহাই পেতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞরা।

১৭৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০