সর্বশেষ

খেলা

ক্ষমা চেয়েও বিতর্কে ইনফান্তিনো, ফিফা সভাপতির পদেই থাকছেন

স্পোর্টস রিপোর্টার
স্পোর্টস রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৪৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার বিতর্কিত পরিকল্পনা প্রত্যাহারের পর নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে ফিফার শীর্ষ কর্মকর্তাদের পূর্ণ সমর্থন পাওয়ায় আপাতত সভাপতির পদে বহাল থাকছেন তিনি। অন্যদিকে উয়েফাসহ কয়েকটি ফুটবল সংস্থা ও সাবেক খেলোয়াড়দের সমালোচনা এখনো থামেনি।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার টুর্নামেন্টগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা সম্প্রতি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করা হলেও এর প্রভাব এখনো কাটেনি।

মরক্কোর রাজধানী রাবাতে ফিফার আফ্রিকান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকের পর সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি পরিচালনা পর্ষদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। ফিফার মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ২১১ সদস্যদেশের ভোটে নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর প্রতি তাঁদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

এর আগে ফিফার ভেতর থেকেই পরিকল্পনাটি যেভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, তা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের পর ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়ে ওঠে।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ইনফান্তিনো ও মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম যৌথভাবে ফিফা কাউন্সিল, সহসভাপতি এবং সদস্যদেশগুলোর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে একটি চিঠি পাঠান। সেখানে তাঁরা পুরো ঘটনার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি এড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ নামে একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা। প্রস্তাব অনুযায়ী, এতে সম্মত হলে প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার কথা ছিল। তবে পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সুশাসন, স্বচ্ছতা ও ফিফার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা ও কনক্যাকাফ এ পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করে। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও তাদের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানায়। পাশাপাশি ইউরোপের কয়েকটি সদস্যদেশ ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি তোলে।

ফিফা জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়ায় সদস্যদেশ ও ফিফা কাউন্সিলকে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করা হয়নি—এ বিষয়টি তারা স্বীকার করেছে। সংস্থাটির ভাষ্য, বিষয়টি আরও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা উচিত ছিল এবং সংবাদমাধ্যমে পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু ভুল হয়েছে।

এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, মরক্কোর সমর্থনের বিনিময়ে দেশটিকে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ফিফা এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছে, স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের ফাইনাল কোথায় হবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।

সমালোচনার মধ্যেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে পর্তুগালের কিংবদন্তি ফুটবলার লুইস ফিগো প্রকাশ্যে তাঁর পদত্যাগ দাবি করে বলেন, ফিফা সভাপতির পদটির মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং ফুটবলের স্বার্থে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন।

তবে এসব সমালোচনার পরও ইনফান্তিনো আগামী ২০২৭ সালের মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে চতুর্থ মেয়াদের জন্য নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ নির্বাচনে জয়ী হতে হলে ২১১ সদস্যদেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টি ভোটের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

ফিফার দাবি, বিতর্কিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় ভুল থাকলেও সংস্থার বিদ্যমান নিয়মের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তারা আশা করছে, সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যতে ফিফার সুশাসন ও সদস্যদের আস্থা আরও শক্তিশালী করবে।

১৩১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
খেলা নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন