পুলিশ কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়: নবীন কর্মকর্তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা
রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬ ৬:১১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশ পুলিশকে কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত থেকে পেশাদার, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং জনগণের আস্থা অর্জনে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার সকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনী কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়। দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, দক্ষ, প্রযুক্তিবান্ধব এবং জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে হবে।
নবীন সহকারী পুলিশ সুপারদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, কর্মজীবনে প্রবেশের পর চেইন অব কমান্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে আনতে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। পুলিশ সদস্যদের জনগণের অকৃত্রিম বন্ধু ও সেবক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান। তাঁর ভাষ্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করে নতুন প্রজন্মের পুলিশ কর্মকর্তারা দেশের উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
জানা যায়, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার সমাপনী কুচকাওয়াজে অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষ করে তাঁরা এখন বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বাস্তব দায়িত্ব পালনের জন্য যোগ দেবেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কারও বিতরণ করা হয়। ‘বেস্ট প্রবেশনার’ এবং ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’ পুরস্কার পান শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভুঁইয়া। ‘বেস্ট অ্যাকাডেমিক অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম এবং ‘বেস্ট শ্যুটার’ নির্বাচিত হন এ.বি.এম. মামুন।
১৫৯ বার পড়া হয়েছে