কুয়াকাটায় আ.লীগ নেতার ‘দখলে’ থাকা জমি ও মার্কেট নিজেদের দাবি বিএনপির
শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬ ৪:১৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র আবদুল বারেক মোল্লার দখলে থাকা জমি ও মার্কেট নিজেদের দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। শুক্রবার সকালে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিতর্কিত ওই জমি ও কার্যালয় উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুল আজিজ মুসুল্লী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুল আজিজ মুসুল্লী অভিযোগ করেন, আওয়ামী সরকারের বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে তাদের ভোগদখলীয় জমি এবং বিএনপির কার্যালয় জোরপূর্বক দখল করে নেন তৎকালীন মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা। এরপর সেখানে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ায় তারা এতোদিন কোনো আইনি বা সামাজিক সংঘাতের পথ বেছে নেননি, তবে প্রশাসনের মাধ্যমে এর শান্তিপূর্ণ সমাধান চান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জমির খতিয়ান ও দলিলের বিবরণ দিয়ে জানান, লতাচাপলী মৌজার এসএ ১২২৭ নম্বর খতিয়ানের বিভিন্ন দাগে তাদের কেনা জমি রয়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল বারেক মোল্লার নেতৃত্বে তাদের বিএনপি কার্যালয়টি দখল করে দলীয় কার্যালয় বানানো হয়। পরবর্তীতে সেখানে মাটি ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে একই খতিয়ানের জমি ও মার্কেট দখলের অভিযোগ তোলেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন বাবুল ভূইয়াও।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য নেতারা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বিগত বছরগুলোতে তাদের নামে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকাছাড়া করা হয়েছিল। বর্তমানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন দল ক্ষমতায় না থাকলেও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তারা কোনো আইন হাতে তুলে নেননি। তারা প্রশাসনের কাছে বৈধ দলিল ও রেকর্ড যাচাই করে নিজেদের জমি ও মার্কেট ফেরত পাওয়ার দাবি জানান।
এদিকে জমি দখলের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল বারেক মোল্লা। তিনি জানান, ওই জমির বা মার্কেটের মালিক তিনি নন, বরং তাঁর ভাতিজা বেল্লাল মোল্লা। ১৯৯৯ সালে কেনা ওই জমি নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা ও নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং মার্কেটটি দখল করার জন্যই তার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
১২০ বার পড়া হয়েছে