সর্বশেষ

জাতীয়

ইউনূস সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ড নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি কেন উঠছে

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬ ৭:২৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, চুক্তি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ সময়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক কার্যক্রম, অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ও চুক্তি নিয়ে যে সব প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হচ্ছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, ড. ইউনূস নির্বাচন আয়োজন বিলম্বিত করে ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় তিনি এসব অভিযোগ করেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এর আগে জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার কার্যক্রম তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি বলেন, অতীত সরকারের দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও ব্যাংক খাতের অনিয়মের মতো অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অভিযোগগুলোও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে খতিয়ে দেখা উচিত।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো সরকারই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়। নির্বাচিত কিংবা অন্তর্বর্তী—যে ধরনের সরকারই হোক না কেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং জনগণের অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, বিচারব্যবস্থা, সরকারি নিয়োগ, অর্থনৈতিক নীতি, স্বাস্থ্য খাত এবং বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।

বিশেষ করে সরকারি নিয়োগ, প্রশাসনিক পদায়ন, সরকারি ক্রয় এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তে যে প্রশ্নগুলো তৈরি হয়েছে, সেগুলোর জবাব দিতে একটি প্রাতিষ্ঠানিক অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা তৈরি—দুই ক্ষেত্রেই তদন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্পাদিত কয়েকটি দেশি-বিদেশি চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব চুক্তি জাতীয় স্বার্থ ও বর্তমান সরকারের পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই তদন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ হওয়া উচিত নয়। বরং ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তী সরকারগুলোর ক্ষমতার সীমা, দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার কাঠামো আরও স্পষ্ট করার জন্য এমন মূল্যায়ন প্রয়োজন।

বাংলাদেশে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। সে বিবেচনায় ড. ইউনূস সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি নিরপেক্ষ পর্যালোচনা দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১২৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন