সর্বশেষ

সারাদেশ

সিনেমার থ্রিলারও হার মানল ইমনকে গ্রেফতারের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান

হাসান ফেরদৌস, চট্টগ্রাম
হাসান ফেরদৌস, চট্টগ্রাম

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬ ১০:৩৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী হত্যাসহ অন্তত সাতটি গুরুতর মামলার মূল হোতা ও শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভারতীয় জাল আধার কার্ড ও পাসপোর্ট নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার মুখে যশোর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তিন তিনবার পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাওয়া এই দুর্ধর্ষ অপরাধীকে গ্রেফতারে শেষ পর্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর এক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ইমনকে গ্রেফতারের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান

বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এই দুর্ধর্ষ গ্রেফতার অভিযানের আদ্যোপান্ত গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, গ্রেফতার এড়াতে ইমন কোনো দেশীয় সিমকার্ড ব্যবহার করতেন না। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছিলেন বিদেশি মোবাইল নম্বর ও এনক্রিপ্টেড চ্যাটিং অ্যাপস।

পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় প্রকাশ্যে যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ ঢাকার মিরপুর থেকে অন্যতম প্রধান আসামি ইলিয়াস ওরফে হামা ইলিয়াসকে গ্রেফতার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদেই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। জানা যায়, বিদেশে পলাতক গ্যাং লিডার ‘বড় সাজ্জাদের’ হয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে পুরো সন্ত্রাসী সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছিলেন এই ডেভিড ইমন ও তার সহযোগী রায়হান আলম।

ইমনের বিরুদ্ধে চকবাজারের চন্দনপুরায় ‘ডিজিটাল ডট নেট’ নামের ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রখ্যাত শিল্পগোষ্ঠী ‘স্মার্ট গ্রুপ’-এর পরিচালকের বাসভবনে গুলিবর্ষণের মতো ভয়ঙ্কর সব অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

চারদিক থেকে পুলিশি জাল যখন সংকুচিত হয়ে আসছিল, তখন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন ইমন। সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার জন্য ২০ হাজার রুপির চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছিল। এমনকী ভারতে গিয়ে স্থায়ীভাবে আত্মগোপনে থাকতে তিনি সংগ্রহ করেছিলেন ভারতের জাতীয় পরিচয়পত্র ‘আধার কার্ড’ এবং দুটি পাসপোর্ট।

তবে পুলিশও ছিল সতর্ক। ঢাকা যাওয়ার পথে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে প্রথমবার তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু পুলিশের ফাঁদ কেটে তিনি পালিয়ে যান। এরপর ঢাকায় এসে নিজের পরিচয় গোপন করতে চড়েন একটি বিলাসবহুল কালো রঙের সিআর-ভি গাড়িতে। খুলনার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে পদ্মা সেতু টোল প্লাজায় পুলিশ কড়া চেকপোস্ট বসালেও দ্বিতীয় দফায় সেখান থেকেও তিনি পার পেয়ে যান।

এরপর পুলিশের চোখ এড়াতে রুট পরিবর্তন করে গোপালগঞ্জ হয়ে নড়াইলের দিকে রওনা হন ইমন। কিন্তু হাল ছাড়েনি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। তাদের দেওয়া নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতে যশোর জেলা পুলিশ ভোর পাঁচটার দিকে নড়াইল-যশোর মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় একটি শক্তিশালী যৌথ ব্যারিকেড গড়ে তোলে। অবশেষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের চৌকস দল গাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং ইমনসহ তার তিন সহযোগীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত অপর সহযোগীরা হলেন—ঢাকার শ্যামপুরের আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল, মতিঝিলের মো. শামীম এবং নোয়াখালীর মো. সাফায়েত হোসেন। পুলিশ জানিয়েছে, ইমনের বিরুদ্ধে বাকলিয়ার জোড়া খুন ও পতেঙ্গা সৈকতে ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ একাধিক খুনের মামলা রয়েছে। এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ নির্মূল করতে আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন