যমুনার তীরে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ, অন্যতম শিক্ষাকেন্দ্র
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ দেশ-বিদেশের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মনোরম ও নিরাপদ পরিবেশের পাশাপাশি বিশ্বমানের শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করায় প্রতিষ্ঠানটি আজ আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত। সম্পূর্ণ অলাভজনক এই মেডিকেল কলেজটি একদিকে যেমন বিশ্বমানের গবেষক ও চিকিৎসক তৈরি করছে, অন্যদিকে তেমনি দরিদ্র মেধাবীদের বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ করে দিচ্ছে।
২০০৫ সালে বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা ও মানবহিতৈষী ডাঃ এম এম আমজাদ হোসেনের উদ্যোগে এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। সরকারি নীতিমালার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি অবকাঠামো সুবিধা নিয়ে প্রায় ৮৪ একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে এর মূল ক্যাম্পাস, হাসপাতাল ও আধুনিক হোস্টেল কমপ্লেক্স।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য এখানে রয়েছে অনন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত। প্রতি ১০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকার সাধারণ নিয়মের বিপরীতে এখানে প্রতি ২.৭৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন দক্ষ শিক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণের জন্য ৬০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি আধুনিক হাসপাতাল সবসময় কার্যকর রয়েছে।
বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে ২২তম ব্যাচ পর্যন্ত মোট ৫৭৩ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন, যার মধ্যে একটি বড় অংশ ভারত ও নেপালের মতো প্রতিবেশী দেশের। এই বিদ্যাপীঠ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থী সফলভাবে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন, যাদের মধ্যে ৪০০ জনই বিদেশী। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য হাসপাতালে সুনামের সাথে চিকিৎসা সেবা ও গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত আছেন।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ অলাভজনকভাবে পরিচালিত হয় এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা এর থেকে কোন আর্থিক লভ্যাংশ নেন না। অত্যন্ত নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত এই ক্যাম্পাসে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত মেধা বিকাশের পূর্ণ সুযোগ রয়েছে।
১২৭ বার পড়া হয়েছে