রাজবাড়ীতে তেলবাহী ট্রেনের বগির ধাক্কায় নিহত ২, আহত অন্তত ৬
সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬ ৪:৫০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজবাড়ীর খানখানাপুর রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তেলবাহী মালবাহী ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি বগি বাস, মাহেন্দ্রা ও অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে দুইজন নিহত এবং অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রাজবাড়ীর সদর উপজেলার খানখানাপুর রেলক্রসিংয়ে রোববার (২৬ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে একটি তেলবাহী মালবাহী ট্রেনের বিচ্ছিন্ন কয়েকটি বগির সঙ্গে সড়কে চলাচলরত যানবাহনের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের ধুলদি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে খুলনার উদ্দেশে একটি তেলবাহী মালবাহী ট্রেন ছেড়ে যায়। ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ সামনের অংশ রেলক্রসিং অতিক্রম করার পর গেটকিপার ট্রেন চলে গেছে মনে করে ব্যারিয়ার খুলে দেন। এ সময় সড়কে বাস, মাহেন্দ্রা ও অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল শুরু করে।
এর কিছুক্ষণ পর মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া কয়েকটি বগি একই রেলক্রসিংয়ে এসে প্রবেশ করে। নিয়ন্ত্রণহীন বগিগুলো একের পর এক মাহেন্দ্রা, অটোরিকশা ও একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে মাহেন্দ্রাটি প্রায় ১০০ গজ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বাসটিও রেললাইনের দিকে ঠেলে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মনোয়ার পাটোয়ারী মারা যান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আব্দুল মালেক।
দুর্ঘটনার পর ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত বাস ও অন্যান্য যান সরিয়ে নিলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে।
রাজবাড়ী রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান জানান, মালবাহী ট্রেনটিতে গার্ড ব্রেকসহ মোট ২৬টি বগি ছিল। চলন্ত অবস্থায় ২১ ও ২২ নম্বর বগির মাঝখান থেকে ট্রেনটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঠিক কোথায় এই বিচ্ছিন্নতা ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, ট্রেনের সামনের অংশ চলে যাওয়ার পর গেটকিপার ট্রেন শেষ হয়েছে মনে করে ব্যারিয়ার খুলে দেন। পরে বিচ্ছিন্ন বগিগুলো আসতে দেখে তিনি পুনরায় গেট বন্ধ করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে দুর্ঘটনা ঘটে যায়। ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২০ বার পড়া হয়েছে