রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত কিছুই জানেন না স্পিকার, পদত্যাগ হলে ৯০ দিনে নির্বাচন
শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬ ৮:২২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শুক্রবার দেশে ফিরে তিনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে সংবিধানের বিধান তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তা স্পিকারের কাছে জমা দিতে হবে এবং ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে নিজের অবস্থান জানান।
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন—এমন আলোচনা সম্পর্কে জানতে চাইলে স্পিকার বলেন, তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানেন না।
তিনি বলেন, “আমি দেশের বাইরে ছিলাম। সুতরাং এখানে কে পদত্যাগ করল, কী করল, আমার কিছুই জানা নেই। এখন হয়তো জানতে পারব।”
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তা স্পিকারের কাছে জমা দিতে হবে। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। এটি সংবিধানের নির্ধারিত প্রক্রিয়া।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে চলা আলোচনা প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি যে তথ্য পেয়েছেন, তা গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের মতোই। রাষ্ট্রপতি কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা তিনি জানেন না।
স্পিকার বলেন, “এটা অনুমাননির্ভর প্রশ্ন। উনি কী করবেন, না করবেন, আমি জানি না।”
এর আগে ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই ব্যাংকক যান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২৬ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে চিকিৎসা শেষ হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি দেশে ফেরেন।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে লিখিত ও নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে ২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৭৮ দিন এ দায়িত্বে ছিলেন।
১৩৮ বার পড়া হয়েছে