সর্বশেষ

সারাদেশ

টানা বৃষ্টিতে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি-মৎস্যে ৩৮ কোটি টাকার ক্ষতি

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬ ৪:৫০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় কয়েক দিনের টানা ভারী ও মাঝারি বৃষ্টিতে কৃষি ও মৎস্য খাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দুই খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ ৩৮ কোটি টাকার বেশি। পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি, ভেসে গেছে মাছ ও মাছের পোনা। দুর্যোগে কয়েকজন জেলের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যচাষীদের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তার প্রস্তুতি চলছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মাঠ

বরিশালসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধি এবং নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার কারণে পাকা ধান, সবজি, রোপা আমনের বীজতলা ও বিভিন্ন উদ্যান ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় সদ্য রোপণ করা ধানের চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরিশাল অঞ্চলের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ৯ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে বিভাগের পাঁচ জেলায় প্রায় ৪১ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ২৯ হাজার ৯১৯ মেট্রিক টন কৃষিপণ্য নষ্ট হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

জেলাভিত্তিক তথ্য বলছে, ফসলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বরগুনা জেলায়। সেখানে ৬ হাজার ৭০৯ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে রয়েছে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি পিরোজপুরে। ছোট আকারের কৃষিখামার বেশি থাকায় সেখানে প্রায় ২৫ হাজার ৮০০ কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

টানা বৃষ্টির প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। বিস্তীর্ণ সবজিক্ষেত পানিতে ডুবে যাওয়ায় সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের মতে, অনেক স্থানে আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হওয়ায় উৎপাদনের পাশাপাশি চালের মানও কমে যেতে পারে।

বরিশাল সদর উপজেলার এক কৃষক জানান, ধান পুরোপুরি পাকতে না পারায় আগেভাগেই কাটতে হচ্ছে। এতে ফলন যেমন কমবে, তেমনি উৎপাদিত চালের গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কৃষির পাশাপাশি মৎস্য খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। বরিশাল আঞ্চলিক মৎস্য দপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে, বিভাগের ছয় জেলায় এ পর্যন্ত প্রায় ২০ কোটি ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪টি ইউনিয়নের ৬ হাজার ৪৬৯টি মাছের পুকুর ও খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে প্রায় ৪৫৫ হেক্টর জলাশয়। এতে প্রায় ৭৪৭ মেট্রিক টন মাছ, ৯৩ লাখ মাছের পোনা এবং প্রায় ৪৫ মেট্রিক টন চিংড়ি ভেসে গেছে।

মৎস্যচাষীরা জানান, অনেকেই পুকুর ও ঘেরের চারপাশে জাল দিয়ে মাছ রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পানির প্রবল স্রোতের কারণে সেই চেষ্টা অনেক ক্ষেত্রেই সফল হয়নি।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সোনাতলা গ্রামের এক মৎস্যচাষী বলেন, এই দুর্যোগে বহু চাষির দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ মুহূর্তেই পানিতে ভেসে গেছে।

দুর্যোগের সময় নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে পাঁচজন জেলের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। সবাই পটুয়াখালী জেলার বাসিন্দা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। অন্যদিকে মৎস্য খাতে ক্ষতিগ্রস্ত চাষি ও উদ্যোক্তাদের প্রাথমিক তালিকাও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

১২০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন