বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচে তিস্তা, ডালিয়া পয়েন্টে বন্যার শঙ্কা
বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬ ৪:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার সকাল ৯টায় পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৪ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে বুধবার সকাল ৯টায় নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৪ সেন্টিমিটার। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার হওয়ায় পানি বর্তমানে বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, মঙ্গলবার বিকেলে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে উজানের বৃষ্টির পানি রাতে তিস্তা দিয়ে নামার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল। সেই পূর্বাভাস অনুযায়ী বুধবার সকালে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে, যাতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকে।
পাউবোর পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, বুধবার সকাল ৬টা ও সকাল ৯টা—দুই সময়েই নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচে ছিল।
এর আগে মঙ্গলবার দিনের বিভিন্ন সময়ে তিস্তার পানির উচ্চতা ওঠানামা করেছে। সকাল ৬টায় পানির সমতল ছিল ৫২ দশমিক ০০ সেন্টিমিটার। এরপর সকাল ৯টায় ৫১ দশমিক ৯৩, দুপুর ১২টায় ৫১ দশমিক ৯০ এবং বিকেল ৩টা ও ৬টায় ৫১ দশমিক ৮৯ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়। রাতে পানি আবার বাড়তে শুরু করে এবং রাত ৯টায় তা দাঁড়ায় ৫১ দশমিক ৯৮ সেন্টিমিটারে।
সোমবারও তিস্তার পানি বিপৎসীমার প্রায় ৫ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। তবে কয়েক দিন ধরে উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে গত ১৩ জুলাই থেকে তিস্তার পানি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করেছে। একই সঙ্গে জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেশ্বর ও পূর্ব ছাতনাই গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে উঁচু এলাকায় চলে গেছে।
টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন জানান, তাঁর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৩৫০ পরিবার গত ১৩ জুলাই থেকে পানিবন্দী রয়েছে। পানি কমার অপেক্ষায় থাকলেও উজানের ঢল কমছে না বলে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ভারতের মেখলিগঞ্জ পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশের ডালিয়া ব্যারেজ পর্যন্ত পানি পৌঁছাতে সাধারণত দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগে। তবে উজানে প্রবল ঢল থাকলে সেই পানি প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই ডালিয়ায় পৌঁছে যায়। এ কারণে নদীর পানির স্তর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১২০ বার পড়া হয়েছে