সর্বশেষ

জাতীয়

৪ মাস পর দেশে ফিরলেন ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নাবিকেরা

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬ ৪:৪৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের মধ্যে প্রায় চার মাস আটকা থাকার পর দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নাবিকেরা। দেশে ফিরে তাঁরা যুদ্ধকালীন অনিশ্চয়তা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।

হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর এলাকায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নাবিকেরা।

দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান থেকে তাঁদের বহনকারী উড়োজাহাজ বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে তাঁদের স্বাগত জানান। বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের সঙ্গে দেখা হলে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

দেশে ফিরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমরা দ্বিতীয় জীবন পেয়েছি। দেশবাসী যাঁরা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন, মানসিক সমর্থন দিয়েছেন এবং নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।’

তিনি জানান, পারস্য উপসাগরে চার মাস অবস্থানকালে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেক জাহাজের নাবিক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, কেউ কেউ মৃত্যুবরণও করেন। কিছু জাহাজ খাদ্য ও পানির সংকটে পড়ে এবং প্রণালি অতিক্রমের সময় কয়েকটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও সার্বিক তৎপরতার কারণেই তাঁরা রাষ্ট্রীয় সম্পদসহ নিরাপদে দেশে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন। যুদ্ধ চলাকালে ক্ষেপণাস্ত্র তাঁদের জাহাজের ওপর দিয়ে উড়ে যেত এবং আশপাশে বিস্ফোরণ ও জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটত। নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ থাকলেও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব বিবেচনায় তাঁরা জাহাজ ত্যাগ করেননি।

তিনি আরও জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানকালে এক রাতে পাশের বার্থে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। ছয়টি টাগবোট দিয়েও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ওই ট্যাংকারের কোনো একটি ট্যাংক বিস্ফোরিত হলে আগুন তাঁদের জাহাজেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল।

জাহাজটির তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার প্রণয় কৃষ্ণ সেন বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে স্যাটেলাইটভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা কার্যকর না থাকায় সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জাহাজ পরিচালনা করতে হয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রে মাইন থাকার কারণে সামান্য পথচ্যুত হলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি ছিল।

উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। পরদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে জাহাজটি দীর্ঘ সময় উপসাগর এলাকায় আটকা পড়ে। পরবর্তীতে নিরাপদে ফিরে আসেন জাহাজটির নাবিকেরা।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন