'স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রার্থী হতে পারবেন না'
বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬ ৪:১৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থিতার যোগ্যতায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাব অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, ঋণখেলাপি, ঋণের জামিনদার এবং ইউটিলিটি বিল বকেয়া থাকা ব্যক্তিরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন না। একই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ভোটার তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা কমানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত পাঁচটি আইনে সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কমিশনের ১২তম সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদ—এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এসব প্রস্তাব শিগগিরই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
সংশোধনী প্রস্তাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণখেলাপি, ঋণের জামিনদার এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বা অন্যান্য ইউটিলিটি বিল বকেয়া থাকা ব্যক্তিদেরও প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের মতে, এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থিতার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
এদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ভোটার তালিকা ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে কমিশন।
বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও তারা ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন না। এ সময় পর্যন্ত তাদের তথ্য ডরম্যান্ট বা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় সংরক্ষিত থাকে। ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়।
ইসির সিনিয়র সচিব বলেন, তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা আরও কমানো যায় কি না, তা কমিশন পর্যালোচনা করছে। এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি কিংবা প্রাথমিক স্তর—কোন পর্যায় থেকে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করা হবে, সে বিষয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণ শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে এসব প্রস্তাব কার্যকর হতে হলে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
১২০ বার পড়া হয়েছে