এমপি নজরুলের ভিডিও ভাইরাল: দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করলেও তথ্য-প্রমান নেই
বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬ ২:৫৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দলীয়ভাবে দাবি করা হলেও তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান একে আসল বলে চিহ্নিত করেছে। তবে এমপি গাজী নজরুল ভিডিওর ওই নারীকে নিজের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি করে এটিকে রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইলিং ও ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে দেশজুড়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রভাবশালী নেতা গাজী নজরুল ইসলাম। গত সোমবার রাতে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও চিত্রে এমপিকে এক তরুণীর সঙ্গে একটি কক্ষে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে এটিকে ‘এআই’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও বলে দাবি করা হয়েছিল। তবে স্বাধীন তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল লেন্স’ ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, ফুটেজটি কোনোভাবেই সম্পাদিত বা এআই প্রযুক্তির নয়, বরং সম্পূর্ণ বাস্তব। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, সিসিটিভি ফুটেজটি ২০২৩ সালের ১ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল।
এই ঘটনার পর জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, সংসদ সদস্য নিজেই ওই তরুণীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে নিশ্চিত করেছেন। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই এই বিয়ে হয়েছে বলে দলটিকে জানানো হয়। তবে বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ২০২৩ সালের হলেও বিয়ের ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে বলে জানা যায়, যা নিয়ে দলটির ভেতরেও নানা প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে নির্বাচনী হলফনামা নিয়ে নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনে গাজী নজরুল ইসলামের জমা দেওয়া হলফনামায় তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি। কোনো তথ্য গোপন করার কারণে তাঁর সংসদ সদস্য পদ এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের বিতর্ক।
অবশেষে মঙ্গলবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, মোছাঃ মরিয়াম বেগম নামের ওই নারীর সঙ্গে তাঁর গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত শ্বশুরবাড়ির ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যাওয়ার পর একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাদের জিম্মি করে টাকা দাবি করে।
এমপির দাবি, গাড়িচালক এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় কিছু বহিরাগত লোক তাদের অবরুদ্ধ করে টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে আরও বড় অঙ্কের টাকা না পেয়ে পারিবারিক গোপনীয় মুহূর্তের ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি এই চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করার গভীর ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেছেন।
১৩১ বার পড়া হয়েছে