সর্বশেষ

সারাদেশ

শেরপুরে সেতু ভেঙে অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ৩ জন

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬ ৪:৩৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ভারি বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চেল্লাখালী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রবল স্রোতে নদীর ওপর নির্মিত একটি বেইলি সেতু ভেঙে পড়লে দুই শিশুসহ তিনজন নদীতে পড়ে যান। পরে তাঁরা সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে রক্ষা পান। সেতু ধসে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
সেতু ভেঙে পড়েছে

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত একটি বেইলি সেতু প্রবল স্রোতে ভেঙে পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চেল্লাখালী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে সেতুর অধিকাংশ অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। পরে প্রবল স্রোতের তোড়ে সেতুটি ধসে পড়লে সেতুর ওপর থাকা দুই শিশুসহ তিনজন নদীতে পড়ে যান। তবে তাঁরা সাঁতরে নিরাপদে তীরে উঠে আসতে সক্ষম হন।

সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় নয়াপাড়া, দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও একই স্থানে নির্মিত একটি বেইলি সেতু পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে গিয়েছিল। পরে ২০২০ সালের দিকে নতুন করে নির্মিত সেতুটি স্থানীয়ভাবে ‘মায়ের ব্রিজ’ নামে পরিচিতি পায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীর পশ্চিম তীরের মানুষের জন্য এই সেতুই ছিল একমাত্র সড়ক যোগাযোগের মাধ্যম। সেতু ধসে পড়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প পথে চলাচলেও ভোগান্তি বাড়ছে।

এদিকে চেল্লাখালী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শেরপুর-নালিতাবাড়ী-গাজীরখামার সড়কের গোল্লারপাড় এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে সোমবার সকাল থেকেই ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া রানীগাঁও এলাকায় নদীভাঙনের কারণে গ্রামীণ সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলায়ও বন্যা পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে। সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আয়নাপুর ও কাড়াগাঁও এলাকায় তীব্র স্রোত এবং ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে মহারশী নদীর পানি বেড়ে রামেরকুড়া এলাকার পুরোনো ভাঙন দিয়ে ঢলের পানি ঝিনাইগাতী সদর বাজারে প্রবেশ করেছে। এতে বিভিন্ন দোকানে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীরা ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী জানান, সোমবার সকাল ৯টায় চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৩২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বিকেল ৩টার দিকে পানি কিছুটা কমে বিপৎসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ২১ দশমিক ৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হয়।

তিনি আরও জানান, একই সময়ে সোমেশ্বরী নদীর পানির উচ্চতা ছিল ২৪ দশমিক ১৭ মিটার এবং মহারশী নদীর পানির উচ্চতা ছিল ২১ দশমিক ৬২ মিটার। দুপুরের পর বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। নতুন করে ভারি বৃষ্টি না হলে এবং উজান থেকে অতিরিক্ত ঢল না এলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

১৩৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন