সর্বশেষ

জাতীয়

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর আজ 

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬ ৪:১৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩৬ জনের প্রাণহানির ঘটনার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বজনেরা বলছেন, সময় পেরোলেও তাঁদের শোক কমেনি। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিমান উড্ডয়ন অব্যাহত থাকায় উদ্বেগ ও হতাশার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।
মাইলস্টোন ট্রাজেডির ১ বছর

২০২৫ সালের ২১ জুলাই, সোমবার দুপুর প্রায় সোয়া ১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই মডেলের প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ অন্তত ৩৬ জন নিহত হন। আহত হন শতাধিক ব্যক্তি। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল শিশু শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনায় বিমানটির পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামও প্রাণ হারান।

দুর্ঘটনার এক বছর পরও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তাঁদের অভিযোগ, এত বড় দুর্ঘটনার পরও তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দুর্ঘটনার কারণ, দায় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য তারা জানতে পারেননি।

দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদের বাবা রুবেল মিয়া বলেন, প্রতিদিন স্কুলে এলে তিনি এখনো ছেলের স্মৃতি খুঁজে বেড়ান। তাঁর ভাষায়, যেদিন সন্তানকে নিজ হাতে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছিলেন, সেদিনই দুপুরে তাকে মরদেহ হিসেবে ফিরে পেতে হয়েছিল। এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই স্মৃতি এখনো তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়।

নিহত সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহতাব রহমানের বাবা মিনহাজ রহমান বলেন, ছেলের পড়ার টেবিল, বই-খাতা এখনো আগের মতোই সাজানো রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন সেগুলো পরিষ্কার করেন, কিন্তু মাহতাব আর ফিরে আসবে না—এই বাস্তবতা তাঁদের প্রতিনিয়ত কষ্ট দেয়।

নিহত শিক্ষার্থী তাসনিম আফরোজ আয়মানের মা আয়েশা আক্তার বলেন, সরকারি ক্ষতিপূরণের অর্থ গ্রহণ করেননি তাঁরা। তাঁর মতে, অর্থ দিয়ে সন্তানের শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি ঝুঁকি বিবেচনায় স্কুলটির অবস্থান নিয়ে নতুন করে মূল্যায়নের দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন শোকের মুখোমুখি হতে না হয়।

এদিকে দুর্ঘটনার পরও ওই এলাকার আকাশপথে প্রশিক্ষণ বিমান চলাচল অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন অভিভাবক। তাঁদের আশঙ্কা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার না হলে ভবিষ্যতেও ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।

তবে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সংস্কারকাজ চলছে এবং সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মহড়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

দুর্ঘটনার প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনের স্মরণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল, বিশেষ মোনাজাত, স্মরণসভা, এক মিনিট নীরবতা পালন, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং নিহতদের স্মরণে ছবি, স্মৃতিকথা ও বার্তা প্রদর্শনী। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মসূচিতে নিহতদের স্বজন, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা অংশ নেবেন।

১৫৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন