এলডিসি উত্তরণে আরও তিন বছর প্রস্তুতিকাল চায় বাংলাদেশ
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬ ৩:২৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে টেকসই ও নির্বিঘ্ন উত্তরণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করেছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) সুপারিশ করবে, আর সেই সুপারিশের ভিত্তিতে আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ সরকার চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়। সরকারের দাবি, অতিরিক্ত সময়কে কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি কৌশলগত কাঠামোও প্রণয়ন করা হচ্ছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ইকোসকের বৈঠকে বাংলাদেশের আবেদন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এখান থেকে প্রস্তুতিকাল কত দিন বাড়ানো যেতে পারে, সে বিষয়ে একটি সুপারিশ দেওয়া হবে। পরে আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে গত জুনে সিডিপি বাংলাদেশের আবেদনকে সমর্থন জানালেও সময়সীমা কত বছর বাড়ানো উচিত, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সুপারিশ দেয়নি। এরপর ইকোসকের বৈঠককে সামনে রেখে সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে।
সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইকোসকের সভাপতি এবং সহসভাপতির সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রণীত কৌশলপত্র উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর স্থায়ী মিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেছে। এর আগে ঢাকায় বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি এবং নেপালের কাঠমান্ডুতেও এ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ এবং বিভিন্ন সংকটের কারণে এলডিসি উত্তরণের জন্য নির্ধারিত পাঁচ বছরের প্রস্তুতিকাল পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। ফলে টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।
সরকার আরও বলছে, বর্তমান প্রশাসন একটি নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগ, রপ্তানি এবং রাজস্ব আদায়ে গতি ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে। তাই তিন বছর সময় বাড়ানোর আবেদন উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত নয়; বরং সুষ্ঠু, পরিকল্পিত ও টেকসই উত্তরণের স্বার্থেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সিডিপির সুপারিশের পাশাপাশি ইকোসক সদস্য দেশগুলোর মতামত ও সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নেবে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি’ দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া উচিত।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ড. মোস্তফা আবিদ খান বলেন, ইকোসকের সুপারিশের ওপরই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনেকাংশে নির্ভর করবে। ফলে প্রস্তুতিকাল কত বছর বাড়ানো হয়, সেটি সরকারের পরবর্তী পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি মনে করেন, এলডিসি-পরবর্তী বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা ধরে রাখতে কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন জরুরি। আমদানি-রপ্তানির সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করার সক্ষমতা গড়ে তোলাও সময়ের দাবি।
১৩৩ বার পড়া হয়েছে