সাতক্ষীরায় স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, জনরোষে অভিযুক্ত হত্যাকারীর মৃত্যু
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬ ৪:১৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার পর এক তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে এক সন্দেহভাজন নারী নিহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
নিহত শিশু ফারজানা সুলতানা (৯) উপজেলার কাজলা মাঝেরপাড়া গ্রামের লতিফ উদ্দিনের মেয়ে এবং স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। অন্যদিকে গণপিটুনিতে নিহত ২৬ বছর বয়সী সুমাইয়া একই এলাকায় ঝালমুড়ি বিক্রি করতেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে ফারজানা বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফিরে আসেনি। খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে স্বজনরা থানায় অবহিত করেন। এরপর পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথভাবে অনুসন্ধান শুরু করে।
অনুসন্ধানের একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়ার বসতঘরের ভেতরের একটি আলমারির ড্রয়ার থেকে নিখোঁজ ফারজানার লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটির কানের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
এই নৃশংস ঘটনার খবর জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত সুমাইয়াকে ধরে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের আসল কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি মব জাস্টিস বা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অভিযুক্ত নারীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পৃথক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১৫১ বার পড়া হয়েছে