সর্বশেষ

সারাদেশ

গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপন, ভুয়া সনদে ছুটি ও স্বাক্ষর জালিয়াতি বোয়ালমারীর শিক্ষক মজনুর

আবিদ জামান, ফরিদপুর
আবিদ জামান, ফরিদপুর

রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬ ৫:২০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের বোয়ালমারী কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ মজনু মিয়ার বিরুদ্ধে ভুয়া চিকিৎসা সনদে ছুটি কাটানো ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। গ্রেফতার এড়াতে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও জাল সনদের মাধ্যমে নিজের অনুপস্থিতিকে বৈধ করার অপচেষ্টা করেন তিনি। একই সাথে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে ব্যবসা পরিচালনা ও কলেজের অর্থ আত্মসাতের একাধিক ঘটনা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু হলে গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে যান নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বোয়ালমারী উপজেলা কমিটির ৭৯ নম্বর সদস্য মোহাম্মদ মজনু মিয়া। কর্মস্থলে এক মাসেরও বেশি সময় অনুপস্থিত থাকার পর নিজের হাজিরা খাতা বৈধ করতে তিনি অভিনব জালিয়াতির আশ্রয় নেন।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি গত ১ জুলাই কলেজে একটি ছুটির দরখাস্ত জমা দেন, যাতে কোনো তারিখের উল্লেখ ছিল না। এই দরখাস্তের সঙ্গে তিনি ২০০৮ সালে অবসরে যাওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক শাহজাহান বিশ্বাসের নাম ও সিল সম্বলিত একটি ভুয়া চিকিৎসা সনদ সংযুক্ত করেন। ঢাকার মিরপুর-১ নম্বরের ‘বিসমিল্লাহ ফার্মেসি’র ঠিকানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো চিকিৎসা সনদ দেওয়া হয়নি। এমনকি মেডিসিন বিভাগের সনদের বিপরীতে তিনি প্রমাণ হিসেবে চক্ষু পরীক্ষার কিছু কাগজ জমা দিয়েছেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মজনু মিয়া গত ১৮ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুপস্থিত থাকার দরখাস্ত দিলেও বাকি দিনগুলোতে হাজিরা খাতায় ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে উপস্থিতি দেখিয়েছেন। গত ১৩ জুলাই সংবাদকর্মীরা কলেজে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তিনি তড়িঘড়ি করে হাজিরা খাতার খালি ঘরগুলো পূরণ করেন। কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক নেতা ফরিদ আহমেদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তিনি এই অনিয়ম চালিয়ে যেতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও মজনু মিয়া সরকারি নীতিমালা অমান্য করে বড়গা বাজারে কীটনাশক ও ওয়াপদা মোড়ে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এর আগে ২০১৫-১৬ সালে কলেজের সাত লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি সেই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন। এছাড়া মুজিব শতবর্ষে ১০২ পাউন্ডের কেক কাটা ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কলেজের বিপুল অর্থ অপচয়ের কারণে সাধারণ শিক্ষকদের বেতন বন্ধ হয়ে যায় এবং এক শিক্ষক স্ট্রোকে আক্রান্ত হন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ মজনু মিয়া দাবি করেন, তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। অসুস্থতার কারণে তিনি কয়েকদিন কলেজে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানান।

১৩৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন