অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই: ময়মনসিংহে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী
রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬ ১:৩৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে দেশজুড়ে পরিকল্পিতভাবে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। শনিবার সকালে ময়মনসিংহে আয়োজিত বিভাগীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তাগিদ দেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নার্সারি মালিকদের উন্নতমানের চারা উৎপাদনেরও আহ্বান জানান মন্ত্রী।
ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বিভাগীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬। শনিবার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এমপি। উদ্বোধনের পর তিনি মেলা প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং গাছের চারা রোপণ করেন।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের বিপর্যয় রোধ, পর্যাপ্ত অক্সিজেনের জোগান নিশ্চিত এবং দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প হতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে মোট ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের এক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেসরকারি নার্সারি মালিকদেরও গুণগত মানের চারা উৎপাদনে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ দূষণ ও শহরাঞ্চলের অক্সিজেন ঘাটতি দূর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রতিবছর পরিকল্পিতভাবে অন্তত ৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করা সম্ভব হলে বাংলাদেশ একটি প্রকৃত পরিবেশবান্ধব ও অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রেজা মোঃ গোলাম মাসুম প্রধানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ রুকুনোজ্জামান রোকন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বন বিভাগের প্রতিনিধি এবং পরিবেশবাদী সংগঠনের কর্মীরা এতে অংশ নেন।
মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পূর্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ময়মনসিংহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সার্কিট হাউজ চত্বরে এসে শেষ হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
১৩৬ বার পড়া হয়েছে