সর্বশেষ

সারাদেশ

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের ৪৪৮ কোটির বাঁধে ফের ধস: বিলীনের ঝুঁকিতে ২ স্কুল

আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম
আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম

শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬ ৫:০২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীররক্ষা বাঁধে নতুন করে ধস দেখা দেওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বাঁধটির বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে বসতভিটা ও দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও ভাঙন ঠেকানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
ব্রহ্মপুত্রের বাঁধে ফের ধস

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের সরকটারী এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের তীব্র স্রোতে হঠাৎ করেই প্রায় ৬০ মিটার ব্লক পিচিং ধসে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, চলতি বর্ষা মৌসুমে এ নিয়ে বাঁধটির অন্তত ১৫০ থেকে ১৬০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেল। আকস্মিক এই ভাঙনে বাঁধের স্বস্তিতে থাকা তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে হাহাকার ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙনের তীব্রতায় বাঁধের ওপর দিয়ে যাওয়া রাস্তার প্রায় ৪০ শতাংশ ধসে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ভাঙন কবলিত এলাকায় রাত থেকেই জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে জোড়াতালির এই কাজে স্থানীয়রা পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তাদের অভিযোগ, ২০১৬ সালে ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বাঁধটি নির্মাণের মাত্র দুই বছরের মাথায় ২০১৮ সাল থেকেই ভাঙতে শুরু করে।

এলাকাবাসীর দাবি, উত্তর ওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কাঁচকোল বড়ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে এই দুটি বিদ্যাপীঠসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও বসতবাড়ি। বর্ষা আসলেই এখানে শুরু হয় ভাঙনের খেলা, অথচ স্থায়ী কোনো সমাধান মিলছে না।

বাঁধটি এভাবে বারবার ধসে যাওয়ার পেছনে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন এবং ভারী যানবাহনের চলাচলকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে ড্রেজার দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু তোলা এবং সেই ভেজা বালু বহনের জন্য বাঁধ কেটে ভারী ডাম্পার ট্রাকের যাতায়াত করার কারণে বাঁধের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। বাঁধের অন্তত নয়টি স্থানে অবৈধভাবে সংযোগ সড়ক তৈরির ফলে নদীর পানির চাপ বাড়লেই ব্লক পিচিং ধসে পড়ছে।

এই বিষয়ে নদী ও পরিবেশবাদী সংগঠন রিভারাইন পিপল-এর পরিচালক অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ জানান, বাঁধ নির্মাণের দুই বছরের মধ্যে ধস নামা কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এছাড়া নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করা এবং বাঁধের খুব কাছ থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভাঙন ত্বরান্বিত হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, বৃহস্পতিবার ধসে যাওয়া ৬০ মিটার অংশে রাত থেকেই ৪০০টি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। এছাড়া বড় আকারের ভাঙন ঠেকাতে আরও ১২ হাজার জিও ব্যাগের বরাদ্দ চেয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যা অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

১৯৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন