৫ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা, বাড়তে পারে নদ-নদীর পানি
শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬ ১:৩৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদ-নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমলেও আগামী তিন দিনের মধ্যে আবারও বৃদ্ধি পেতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। শুক্রবার প্রকাশিত এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদ-নদীর পানি আগামী তিন দিনে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং কিছু স্থানে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছে।
এদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানিও আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু এলাকায় নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি বা ওপরে উঠতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী তিন দিনে কুশিয়ারা ও সুরমা নদীর পানিও আবার বাড়তে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি আগামী ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল থাকতে পারে।
অন্যদিকে ফেনী, মুহুরী, গোমতী ও সিলোনিয়া নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা কমেছে। তবে এসব নদীর পানি আগামী একদিন বাড়তে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে উত্তর উড়িষ্যা এবং সংলগ্ন বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
১৫২ বার পড়া হয়েছে