অর্থনীতি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬ ২:৩৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, অতীতের অনিয়ম ও অর্থপাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সরকার ধাপে ধাপে এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে দেশের সমতল এলাকায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে হলে সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে।” তিনি জানান, দেশ বর্তমানে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে সরকার কাজ করছে।
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে পাচার হয়েছে। তিনি বলেন, অর্থপাচার বন্ধ করা গেলে দেশের অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হতো। সরকারের পক্ষ থেকে যেসব বিষয় দ্রুত সমাধান করা সম্ভব, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সভায় প্রধানমন্ত্রী সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা হবে যেখানে কোনো জনগোষ্ঠী বৈষম্যের শিকার হবে না।
তিনি বলেন, প্রত্যাশিত বাংলাদেশ নির্মাণে সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। দেশের কোনো নাগরিককেই আলাদা হিসেবে দেখা হবে না।
বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, সমতলের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন আয়োজন, জাতিগত পরিচয়ের স্বীকৃতি, সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা, ভূমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধা বৃদ্ধি এবং বন সংরক্ষণসহ বিভিন্ন প্রকল্পের নামে উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানান।
প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং দাবিগুলো বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, আগের সরকারের সময়ে দেশের একটি প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে নেওয়া উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে। তিনি জানান, কয়েকটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কিডনি ডায়ালাইসিস ও হৃদ্রোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রীর ওপর কর কমানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রংসহ ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
১১৯ বার পড়া হয়েছে