বরিশালে মসজিদকেন্দ্রিক সম্পত্তি বিরোধ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দুই পক্ষের
সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬ ২:০২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরিশালের কাশীপুর এলাকায় একটি মসজিদকে ঘিরে পারিবারিক সম্পত্তি দখল, জাল কাগজপত্র তৈরি, হামলা ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন আফসানা আহাম্মেদ। তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন মসজিদের সেক্রেটারি ও ইমাম মাওলানা জাকারিয়া।
বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে আফসানা আহাম্মেদ অভিযোগ করেন, কাশীপুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় তাদের পারিবারিক সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করে আসছে। সংবাদ সম্মেলনে তার মা ও খালা উপস্থিত ছিলেন।
আফসানা আহাম্মেদ বলেন, তার বাবা মরহুম অলিউদ্দিন আহাম্মদ জীবদ্দশায় দাদা মরহুম ছাবের আহাম্মদের দান করা জমিতে একটি তিনতলা মসজিদ নির্মাণ করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মসজিদের মুতাওয়ালির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে বাবার মৃত্যুর পর মসজিদ কমিটিতে পরিবর্তন আনার পর থেকেই তাদের পরিবারের ওপর বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ মূল্যবান সম্পত্তি দখলের জন্য জাল কাগজপত্র তৈরি, হামলা, ভাঙচুরসহ নানা কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে রায় পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
আফসানা আরও অভিযোগ করেন, মসজিদের নাম ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মসজিদের আয়-ব্যয়, পরিচালনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুললে ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে বিষয়টি ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে মসজিদের দৃশ্যমান উন্নয়ন না হলেও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), আয়কর বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মসজিদের সেক্রেটারি ও ইমাম মাওলানা জাকারিয়া। তিনি বলেন, আফসানা আহাম্মেদ দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের একটি স্টল দখলে রেখেছেন এবং ওই স্টলের এক লাখ টাকার বেশি ভাড়া বকেয়া রয়েছে। একাধিকবার ভাড়া পরিশোধের অনুরোধ করা হলেও বিষয়টির সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
মাওলানা জাকারিয়া বলেন, তার বিরুদ্ধে ৩০ কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ঢাকার ফ্ল্যাটটি তার শ্বশুরের এবং তিনি বৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বিদেশ থেকে অবৈধভাবে সোনা বা পণ্য আনার অভিযোগও ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
১১৮ বার পড়া হয়েছে