সলঙ্গায় ‘হানিট্র্যাপে’ মুক্তিপণ দাবি চক্রের নারী সদস্য গ্রেপ্তার, ভুক্তভোগী উদ্ধার
সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬ ১০:২৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় সৌদি আরবপ্রবাসী এক ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে কথা বলার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে ডেকে এনে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরে তাঁর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পুলিশের অভিযানে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার পুলিশ জানিয়েছে, সৌদি আরব থেকে তিন মাসের ছুটিতে দেশে আসা বেলকুচি উপজেলার শোলাকুড়া গ্রামের বাসিন্দা রাসেল ফকির (৩০) গত ৪ জুলাই বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি।
পরদিন সকালে রাসেলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে তাঁর স্ত্রী হাসি খাতুনের কাছে একটি কল আসে। ফোনে এক নারী নিজেকে অপহরণকারীদের পক্ষের লোক পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, রাসেল তাঁদের হেফাজতে আছেন। তাঁকে জীবিত ফেরত পেতে হলে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। অন্যথায় তাঁকে হত্যা করা হবে এবং তাঁর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমে একটি বিকাশ নম্বরে দুই দফায় মোট ৫০ হাজার টাকা পাঠান। এরপরও অভিযুক্তরা আরও ৫ লাখ টাকা নগদ নিয়ে সলঙ্গার তেলকুপি এলাকায় যেতে বলে। এ অবস্থায় রাসেলের পরিবার সলঙ্গা থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে।
রোববার রাতে পুলিশের একটি দল ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছদ্মবেশে তেলকুপি নদীর পাড়ে অবস্থান নেয়। সেখানে টাকা নিতে এলে লাকী খাতুন (২৬) নামে এক নারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সলঙ্গা থানার চরবেড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চরবেড়া এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের এক সদস্য পালিয়ে গেলেও একটি কক্ষের তালা ভেঙে সেখান থেকে রাসেল ফকিরকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় লাকী খাতুনের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন, সংশ্লিষ্ট সিম এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।
উদ্ধারের পর রাসেল ফকির পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা রয়েছে—এমন কথা বলে তাঁকে ৪ জুলাই বিকেলে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।
তাঁর অভিযোগ, রাতে জোরপূর্বক আপত্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে তা মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়।
সোমবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে রায়গঞ্জ-সলঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় মামলা হয়েছে।
১৩০ বার পড়া হয়েছে