চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম মৌসুমের শেষেও প্লাস্টিক ক্রেটের উচ্চমূল্য, সিন্ডিকেটের অভিযোগে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা
শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের মৌসুম শেষের দিকে এলেও প্লাস্টিক ক্রেটের অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে ব্যবসায়ী ও আমচাষীদের ক্ষোভ কমেনি। তাঁদের অভিযোগ, বাজারে একটি কথিত সিন্ডিকেট ক্রেটের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ করছে। এতে আমের বাজারে অতিরিক্ত ব্যয় বেড়ে ব্যবসায়ীদের লাভ কমে যাচ্ছে এবং এর প্রভাব উৎপাদক থেকে শুরু করে ভোক্তাদের ওপরও পড়ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের মৌসুম প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাজার থেকে ইতোমধ্যে ঐতিহ্যবাহী বোম্বাই, লক্ষণভোগ, ল্যাংড়া ও ক্ষীরশাপাত জাতের আম প্রায় বিদায় নিয়েছে। বর্তমানে বাজারে আম্রপালি, ফজলি ও বারি-৪ জাতের আমের সরবরাহ ও বেচাকেনা চলছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে আম্রপালি জাতের আমের। প্রতি মণ আম্রপালি ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উন্নত মানের ফজলি আমের দাম প্রতি মণ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে বারি-৪ জাতের আম বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আমের বাজারে দাম মোটামুটি সন্তোষজনক থাকলেও প্লাস্টিক ক্রেটের অতিরিক্ত মূল্য তাদের লাভের বড় অংশ কমিয়ে দিচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র বাজারে ক্রেটের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে প্রতি মৌসুমেই অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে।
একাধিক ব্যবসায়ী জানান, প্লাস্টিক ক্রেটের মূল্য নিয়ে প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে মৌসুমের শেষ সময়েও একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
আমচাষীরাও বলছেন, ক্রেটের বাড়তি খরচের প্রভাব শুধু ব্যবসায়ীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ছে কৃষক ও ভোক্তা—উভয়ের ওপর।
তাঁদের দাবি, বাজারে নিয়মিত তদারকি বাড়িয়ে প্লাস্টিক ক্রেটের মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে আগামী মৌসুমে আম ব্যবসা আরও স্বাভাবিক ও লাভজনক হবে।
১৮৩ বার পড়া হয়েছে