পবিত্র আশুরা আজ: কারবালার আত্মত্যাগে সত্য ও ন্যায়ের চিরন্তন বার্তা
শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬ ৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
আজ পবিত্র আশুরা, হিজরি ১৪৪৮ সনের মহররম মাসের ১০ তারিখ। মুসলিম উম্মাহর কাছে দিনটি ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বের পাশাপাশি গভীর শোকেরও প্রতীক। কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণে দেশজুড়ে বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।
পবিত্র আশুরা ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিন। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারক হলেও কারবালার ঘটনা এ দিনকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। ৬১ হিজরির ১০ মহররম, খ্রিস্টীয় ৬৮০ সালে ইরাকের কারবালা প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীরা সত্য, ন্যায় ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামে শাহাদাত বরণ করেন।
ইসলামি ইতিহাসে এই আত্মত্যাগ অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত। ধর্মীয় চিন্তাবিদদের মতে, কারবালার শিক্ষা শুধু মুসলিম সমাজের জন্য নয়, বরং মানবজাতির জন্য ন্যায়, আদর্শ ও আত্মত্যাগের এক চিরন্তন অনুপ্রেরণা।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। তাঁরা বাণীতে আশুরার মহান শিক্ষা ধারণ করে শান্তিপূর্ণ, মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
দিনটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় আলোচনা, মিলাদ মাহফিল, কোরআনখানি, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। শিয়া সম্প্রদায় যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও শোকাবহ পরিবেশে আশুরা পালন করছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাজিয়া মিছিল, শোকসভা এবং অন্যান্য ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ বারান্দায় ‘আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আশুরার শিক্ষা এবং কারবালার ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
এদিকে রাজধানীতে তাজিয়া মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে তাজিয়া মিছিলে ধারালো অস্ত্র, দাহ্য পদার্থ, লাঠি, ব্যাগ বা সন্দেহজনক কোনো বস্তু বহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ শব্দের যন্ত্র, আতশবাজি ও পটকা ব্যবহার থেকেও বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র আশুরার মূল শিক্ষা হলো সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা। কারবালার আত্মত্যাগ যুগে যুগে মানুষের বিবেককে জাগ্রত করেছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সাহস জুগিয়েছে।
১৫১ বার পড়া হয়েছে