কুড়িগ্রামে কমছে নদীর পানি, ৩০ পয়েন্টে তীব্র ভাঙনে দিশেহারা মানুষ
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬ ৭:১৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি হ্রাস পেতে শুরু করলেও জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। নদ-নদীর পানি কমায় বন্যার আশঙ্কা কাটলেও ৩০টি পয়েন্টে ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। ফসল তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
উজানের পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির প্রভাব কেটে যাওয়ায় কুড়িগ্রামের প্রধান নদীগুলোর পানি কমতে শুরু করেছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত রাত থেকে ভারী বর্ষণ না হওয়ায় ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি বিভিন্ন স্থানে ৫ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। তবে পানি কমার এই স্বস্তির সমান্তরালে নদী তীরবর্তী মানুষের জন্য নতুন আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীগুলোর অন্তত ৩০টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। রাক্ষুসে নদীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি, ভিটেমাটি এবং গাছপালা। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার ভুক্তভোগী কৃষক জমশেদ আলী জানান, তার এক বিঘা জমির পটলখেত পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। দ্রুত পানি না নামলে সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে তার।
কৃষি বিভাগ অবশ্য আশা প্রকাশ করেছে যে, পানি দ্রুত নেমে গেলে প্লাবিত ফসলের বড় কোনো ক্ষতি হবে না। সেই সঙ্গে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত না হলে বড় ধরনের বন্যার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে ভাঙন প্রতিরোধের বিষয়ে তিনি স্বীকার করেন যে, জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় ভাঙনকবলিত সব এলাকায় একযোগে প্রতিরক্ষা কাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
১১৪ বার পড়া হয়েছে