দেবিদ্বারে এসএসসি খাতা পরীক্ষার্থী দিয়ে মূল্যায়নের অভিযোগ
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬ ১২:১০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্র মূল্যায়নে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজ দায়িত্বের খাতা বিদ্যালয়ের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী দিয়ে মূল্যায়ন করিয়েছেন—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দেবিদ্বার উপজেলার আবদুল্লাহপুর হাজী আমীর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া এসএসসি ২০২৬ সালের বিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু তিনি বোর্ডের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিজের দায়িত্বপ্রাপ্ত খাতা বিদ্যালয়ের মো. মেহেদী নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে দিয়ে মূল্যায়ন করিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওই পরীক্ষার্থীকে খাতা মূল্যায়ন করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের ঘটনায় উত্তরপত্র মূল্যায়নের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তারা বলছেন, এটি শুধু অনিয়মই নয়, বরং পুরো পরীক্ষামূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষে অলি আহাম্মেদ খান ও শরিফুল ইসলাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগকারী অলি আহাম্মেদ খান ও শরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষায় নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। তাদের মতে, এসএসসি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সামান্য অনিয়মও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দেবিদ্বার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বিষয়টি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১১৬ বার পড়া হয়েছে