সর্বশেষ

সারাদেশ

নরসিংদীতে অনুমোদন ছাড়াই সরকারি বিদ্যালয় ভবন ভাঙার অভিযোগ

শামীম মিয়া, নরসিংদী
শামীম মিয়া, নরসিংদী

রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬ ৪:২৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
নরসিংদীর সদর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবন নিলাম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই ভেঙে মালামাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে ক্রেতা মালামাল নিয়ে যেতে না পারায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগের পর প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।
বিদ্যালয়ের মালামাল নেয়ার চেষ্টা

নরসিংদীর সদর উপজেলার শীলমান্দী এলাকায় অবস্থিত ফারুক আজিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পুরোনো ভবন ভেঙে মালামাল বিক্রির অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগের তীর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জয়শ্রী সাহার দিকে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের ভাষ্য, ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন দুটি টিনশেড ভবনে পাঠদান চলত। সম্প্রতি সরকার নির্মিত নতুন দুইতলা ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তরের পর পুরোনো ভবন দুটি আর ব্যবহার করা হচ্ছিল না।

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় জনগণকে না জানিয়ে পুরোনো একটি ভবন ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ওই ভবনের টিন, লোহার গ্রিল, দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন মালামাল এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।

গত ১৮ জুন সকালে ক্রেতা গনি মিয়া শ্রমিকদের নিয়ে ভবনটি ভেঙে মালামাল গাড়িতে তোলার সময় এলাকাবাসী বাধা দেন। এ সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে মালামাল রেখে চলে যান তিনি।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয়রা মালামাল ক্রয়ের প্রক্রিয়া ও দরপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে গনি মিয়া এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আফাজ উদ্দিনের দাবি, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বা গ্রামবাসীর সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই ভবনটি ভাঙা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টির পেছনে আর্থিক অনিয়মের চেষ্টা থাকতে পারে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জয়শ্রী সাহা। তাঁর দাবি, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতে পরিত্যক্ত ভবনটি ভাঙা হয়েছে। তিনি বলেন, ভবনের কোনো মালামাল বিক্রি করা হয়নি।

এদিকে নরসিংদী সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসাইন জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের ভবন ভাঙার জন্য কোনো লিখিত বা মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়নি। ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আসমা জাহান সরকার বলেন, সরকারি সম্পদ বা পরিত্যক্ত স্থাপনার মালামাল বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিলাম প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এ ক্ষেত্রে নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

১৩০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন