টাঙ্গাইলের মধুপুরে পরিত্যক্ত সেফটি ট্যাংকে নেমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৪ জনের মৃত্যু
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬ ৬:৪৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
টাঙ্গাইলের মধুপুরে একটি পরিত্যক্ত সেফটি ট্যাংকে পড়ে যাওয়া ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে দমবন্ধ হয়ে চার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার জলই এলাকায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দীর্ঘ চেষ্টার পর সেফটি ট্যাংক থেকে তাঁদের নিথর দেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার টেলকি জলই এলাকায় একটি ছাগল পরিত্যক্ত সেফটি ট্যাংকের ভেতরে পড়ে যায়। সেটিকে বাঁচাতে প্রথমে গ্রাব্রিয়েল নকরেক (৪৫) নামের এক ব্যক্তি ভেতরে নামেন। দীর্ঘক্ষণ পার হয়ে গেলেও তাঁর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে একে একে আরও তিনজন ভেতরে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে কেউই আর বাইরে বের হতে পারেননি।
পরিত্যক্ত কূপে মানুষের নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ট্যাংকের ভেতর থেকে একে একে চারজনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ধারণা, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ট্যাংকের ভেতর জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস ও অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় নিহতরা হলেন—জলই গ্রামের বাসিন্দা গ্রাব্রিয়েল নকরেক (৪৫), রতন নকরেক (২৫), বাবলু হাদিমা (৩৫) এবং নেইমার ম্রং (১০)। তারা প্রত্যেকেই স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী গারো সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর পুরো জলই এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের বাতাস। ঘটনার খবর পেয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পরিত্যক্ত কূপ ও সেফটি ট্যাংকের ব্যবহার এবং এর ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
১২০ বার পড়া হয়েছে