হিলিতে চাহিদার অর্ধেকও মিলছে না বিদ্যুৎ, তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬ ১২:১১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলায় চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় তীব্র গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঘন ঘন লোডশেডিং ও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতাল ও জরুরি সেবার স্বাভাবিক কার্যক্রমও।
দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, এই উপজেলায় প্রায় ৩৮ হাজার গ্রাহকের জন্য দৈনিক ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। তবে উৎপাদন ঘাটতির কারণে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়েই দীর্ঘ সময় ধরে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১০ থেকে ১২ বার লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর দেখা মিলছে না। চলমান তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, প্রবীণ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা। হাতপাখা দিয়ে রোগীদের বাতাস করে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন স্বজনেরা।
বিদ্যুতের এই ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়। হিলির বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ফ্রিজে থাকা খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দ্রুত।
সবচেয়ে বড় বিপাকে পড়েছেন এলাকার ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও ভ্যানচালকেরা। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে তারা তাদের বাহনগুলো ঠিকমতো চার্জ দিতে পারছেন না। ফলে কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ায় তাদের দৈনিক আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা তাদের জীবনযাত্রাকে মারাত্মক সংকটে ফেলেছে।
হিলি পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোন অফিসের এজিএম মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী জানান, উৎপাদন ঘাটতির কারণে জাতীয় গ্রিড থেকেই সরবরাহ কম পাওয়া যাচ্ছে। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দ্রুতই এই লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
১৭৯ বার পড়া হয়েছে