সিদ্ধিরগঞ্জের শ্মশানঘাট উন্নয়নে স্থিতাবস্থা বাতিলের আবেদন শুনানি
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬ ৯:০৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আজিবপুর এলাকার প্রাচীন শ্মশানঘাট ও মন্দির উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে চলমান আইনি জটিলতায় আদালতে স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) আদেশ বাতিলের আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পারটেক্স গ্রুপের মামলায় জারি হওয়া আদেশ প্রত্যাহারের পক্ষে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন যুক্তি উপস্থাপন করে।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ৫নং ওয়ার্ডের আজিবপুর এলাকায় অবস্থিত প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো শ্মশানঘাট ও মন্দির উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষিতে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রথম যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে বিচারক তাহামিনা আক্তার পিংকির আদালতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান স্থিতাবস্থা আদেশ বাতিলের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি ও যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, ১৭৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শ্মশানটি বিভিন্ন সরকারি তদন্তে শ্মশানের জমি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এবং এখানে উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রাখা জরুরি।
অন্যদিকে বিবাদী পক্ষ আম্বার পেপার মিলস (পারটেক্স গ্রুপ) সময়ের আবেদন করলে আদালত আগামী ১৮ জুন বৃহস্পতিবার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আধুনিক দাহ চুল্লি, গোসল ঘর এবং দ্বিতল অফিস ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল। তবে পারটেক্স গ্রুপের মামলার কারণে প্রকল্পের কাজ স্থগিত হয়ে যায় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের ৯টি ওয়ার্ড ও আশপাশের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর ও মদনগঞ্জ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই শ্মশানঘাটে শবদাহ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। নিম্ন আদালতের একাধিক রায়েও জমিটিকে শ্মশানের সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, অতীতেও একাধিকবার এই শ্মশানঘাট দখলের চেষ্টা হয়েছিল, তবে স্থানীয়দের প্রতিরোধে তা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে আবারও উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, যা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
১১৬ বার পড়া হয়েছে