রুমায় সড়ক নির্মাণের ১ বছর পরেই ভাঙন, পিচ উঠে যাওয়ার অভিযোগ
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬ ৮:৩২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বান্দরবানের রুমা উপজেলায় সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কগুলো অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী।
সরকারি অর্থে পার্বত্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও বান্দরবানের রুমা উপজেলায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যাওয়া এবং বড় ধরনের ভাঙনের ঘটনা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়িত ‘পাহাড়ে স্থানীয় গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ২০২৪–২৫ অর্থবছরে নির্মিত ও নির্মাণাধীন একাধিক সড়কের মান নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলে অসন্তোষ বাড়ছে।
সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে রুমা–রোয়াংছড়ি অভ্যন্তরীণ সংযোগ সড়ক থেকে পাইন্দু হেডম্যানপাড়া পর্যন্ত সড়ক প্রকল্পকে ঘিরে। এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ছয়টি স্থানে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণও রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগের ধাপে নির্মিত প্রায় ১ হাজার ৫০ মিটার পিচঢালাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে যায় এবং সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এরপরও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার না করেই নতুন ধাপের কাজ শুরু করা হয়।
স্থানীয়রা আরও দাবি করেন, নির্মাণকাজে মানসম্মত বালু ও ইটের খোয়ার পরিবর্তে নিম্নমানের পাহাড়ি বালি ও মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে কাজ করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য গংবাসে মারমা বলেন, কাজের মান অত্যন্ত খারাপ এবং অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। একই অভিযোগ করেন স্থানীয় যানবাহন চালক উক্যথোয়াই মারমা, যিনি বলেন, সড়কের দুরবস্থার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা জানান, বারবার এলজিইডিকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দাবি করেন, অভিযোগ নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে জানাতে হবে। মূল ঠিকাদার অবশ্য জানান, অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলজিইডির উপজেলা পর্যায়ের ফিল্ড অফিসার জানিয়েছেন, অনিয়মের বিষয়ে জেলা কার্যালয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং ঠিকাদারকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে।
তবে বান্দরবান এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, কিছু অংশে ভাঙন দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয় এবং পরবর্তী বরাদ্দ এলে মেরামত করা হবে। সড়কের স্থায়িত্ব সাধারণত চার থেকে পাঁচ বছর বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও কর্মকর্তাদের ভিন্ন বক্তব্যে রুমার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের মান ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
১২০ বার পড়া হয়েছে