জামালপুরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড, ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬ ১০:০৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জামালপুরে পৃথক দুটি মামলায় রায় দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১। স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড ও ধর্ষণ মামলায় আরেকজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে উভয় আসামির বিরুদ্ধে অর্থদণ্ডও আরোপ করা হয়েছে।
জামালপুরে স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে আরেক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১–এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম পৃথক দুটি মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আলাল সেক (৫৩) জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা। অপরদিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রাজীব হোসেন (৩৮) একই উপজেলার বাঘারচর গ্রামের বাসিন্দা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ২৬ মে রাত থেকে ২৭ মে সকালের মধ্যে কোনো একসময় আলাল সেক তাঁর স্ত্রী নাইফুল বেগমকে যৌতুকের দাবিতে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। পরে তাঁকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল খালেক ২০০৮ সালের ৫ জুন আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আজ রায় দেন। রায়ে আলাল সেককে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি পলাতক থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ২০১৫ সালে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রাজীব হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন একই আদালত।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৭ জুন গভীর রাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাঘারচর গ্রামে এক শিক্ষার্থীর শয়নকক্ষে প্রবেশ করে রাজীব হোসেন। সেখানে তিনি ওই শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তিনি পালিয়ে যান।
ঘটনার চার দিন পর, ১১ জুন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী দেওয়ানগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় রাজীব হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে আইনজীবী ফজলুল হক এবং আসামিপক্ষের হয়ে অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান লিটন আদালতে শুনানিতে অংশ নেন।
১১৯ বার পড়া হয়েছে