ফরিদপুরের সালথায় প্রথমবার বাণিজ্যিক আনারস চাষ, ৮০ লাখ টাকা আয়ের আশা
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬ ৮:৪২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে বাণিজ্যিক আনারস চাষ শুরু করেছেন কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির। ৮ বিঘা জমিতে প্রায় ৮০ হাজার আনারসের চারা রোপণ করে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি বৃহৎ বাগান। সফল ফলনের মাধ্যমে প্রায় ৮০ লাখ টাকা আয় করার আশা করছেন তিনি। কৃষি বিভাগের মতে, এ উদ্যোগ এলাকায় ফল চাষের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করে আলোচনায় এসেছেন কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির। উপজেলার যদুনন্দী গ্রামে ৮ বিঘা জমিতে প্রায় ৮০ হাজার আনারসের চারা রোপণ করে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি বৃহৎ আনারস বাগান।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সালথা উপজেলায় এত বড় পরিসরে আগে কখনো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ হয়নি। ফলে মিলন ফকিরের এ উদ্যোগকে এলাকার কৃষিতে একটি নতুন সম্ভাবনার সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মিলন ফকির। গত বছর শখের বশে নিজের বাড়ির ছাদে কয়েকটি আনারস গাছ লাগান তিনি। সেখানে আশানুরূপ ফলন পাওয়ার পর বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষের পরিকল্পনা করেন।
পরবর্তীতে টাঙ্গাইলের মধুপুর অঞ্চল থেকে ক্যালেন্ডার ও জলডুগু জাতের প্রায় ৮০ হাজার চারা সংগ্রহ করে ৮ বিঘা জমিতে রোপণ করেন। বর্তমানে বাগানজুড়ে সারিবদ্ধভাবে বেড়ে উঠছে আনারসের গাছ।
মিলন ফকির বলেন, ছাদে আনারস চাষে ভালো ফল পাওয়ার পর তাঁর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। এরপর বড় পরিসরে আনারস চাষের সিদ্ধান্ত নেন। চারা সংগ্রহ, জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যাসহ এ পর্যন্ত প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, আগামী বছর ফল সংগ্রহ শুরু হবে। ফলন ভালো হলে প্রায় ৮০ লাখ টাকার আনারস বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন। পাশাপাশি আনারসের চারা উৎপাদন ও বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা বাগানটি ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা বাগান পরিদর্শনে আসছেন এবং আনারস চাষের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
স্থানীয় কৃষক রফিক মোল্যা বলেন, এলাকায় আগে কখনো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ হতে দেখেননি। মিলন ফকিরের উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে অন্য কৃষকরাও আনারস চাষে আগ্রহী হবেন বলে তিনি মনে করেন।
স্থানীয়দের মতে, প্রচলিত ধান, পেঁয়াজ ও সবজি চাষের বাইরে গিয়ে নেওয়া এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সফল হলে ফরিদপুর অঞ্চলে আনারস চাষের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য তৈরি হবে আয়ের নতুন সুযোগ।
সালথা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, উপজেলায় প্রথমবারের মতো ৮ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। উদ্যোগটি সফল হলে আরও কৃষক লাভজনক ফল চাষে এগিয়ে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
১১৬ বার পড়া হয়েছে