দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত; আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬ ১২:৩০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
মৃতদের মধ্যে ঢাকায় তিনজন, রাজশাহীতে একজন এবং ময়মনসিংহে একজন শিশু রয়েছে।
শনিবার প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও ৭৯৬ শিশুর শরীরে হাম ও হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৫৫৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯২ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ৮৪ হাজার ৮৯৯ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ৬৯ হাজার ৬০৬ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৬৫ হাজার ৮৫২ শিশু।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। তাই শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকাদান নিশ্চিত করা এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এনে হাম প্রতিরোধে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি বা হাম-সদৃশ উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) চলতি বছরের এপ্রিলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের হামের পরিস্থিতিকে জাতীয়ভাবে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে মূল্যায়ন করে। সংস্থাটি জানায়, ২০২৬ সালের শুরু থেকে দেশে হামের রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডব্লিউএইচওর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামের সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও আশপাশের বস্তি এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যকর টিকাদান কর্মসূচি এবং দ্রুত রোগ শনাক্তকরণই হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়।
১১৮ বার পড়া হয়েছে