বিনামূল্যে ছানি অপারেশনে ৩৬ অসহায় মানুষের চোখে ফিরল আলোর আশা
শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬ ৬:০৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
অর্থাভাবে দীর্ঘদিন চোখের চিকিৎসা করাতে না পারা ৩৬ জন দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি ও টেরিজিয়াম অস্ত্রোপচার করেছে বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট। বসুন্ধরা গ্রুপ ও ভিশনকেয়ার ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অস্ত্রোপচার, ওষুধ, থাকা-খাওয়াসহ সব ব্যয় বহন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ায় বছরের পর বছর স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে দূরে ছিলেন অনেক মানুষ। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করাতে পারেননি তারা। এমন ৩৬ জন অসহায় রোগীর চোখে আবারও আলোর আশা ফিরিয়ে দিয়েছে বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট।
সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত এক বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে ৩০ জনের ছানি এবং ছয়জনের টেরিজিয়াম (চোখের মাংসপিণ্ড) অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অস্ত্রোপচার, ওষুধ, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য চিকিৎসা-সংক্রান্ত সব ব্যয় তারা বহন করেছে।
চিকিৎসা শেষে দীর্ঘদিন পর আবার স্পষ্টভাবে দেখতে পেরে অনেক রোগী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। চিকিৎসক ও সেবাকর্মীদের আন্তরিক সেবায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তারা।
এই মানবিক উদ্যোগটি পরিচালনা করছে বসুন্ধরা গ্রুপ ও ভিশনকেয়ার ফাউন্ডেশন। এর লক্ষ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দরিদ্র ও চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের কাছে মানসম্মত চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া।
এ কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার হাতুয়া গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী শুক্কুর মিয়া। প্রায় দুই বছর ধরে তার চোখে ঝাপসা দেখার সমস্যা ছিল। একসময় অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ায় কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
২০২৫ সালে এলাকায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের প্রচারণা শুনে তিনি সেখানে অংশ নেন। পরীক্ষায় তার দুই চোখেই ছানি ধরা পড়ে। গত বছর ডান চোখে অস্ত্রোপচার হওয়ার পর এবার বাম চোখেও সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।
চোখে আলো ফিরে পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে শুক্কুর মিয়া বলেন, ‘আল্লাহ উনাগোরে ভালো করুক। আমাগোর সব চিকিৎসা উনারাই করাইছে। খাওনদাওন সব ফ্রি। আইছি, এক টাকাও লাগে নাই।’
একইভাবে দীর্ঘ ৫২ বছর জুট মিলে কাজ করা আব্দুল মান্নান মিয়াও বয়সজনিত কারণে ছানিতে আক্রান্ত হন। বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের সুযোগ পাওয়ায় তিনি আবারও স্বাভাবিকভাবে দেখতে পারবেন বলে আশা করছেন।
শুধু এই দুজন নন, শহীদ মিয়া, শফিকুল মিয়াসহ আরও অনেক অসহায় মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রথমে বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে রোগীদের চিহ্নিত করা হয়। পরে বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং কসবার মা আমেনা গফুর চ্যারিটেবল হসপিটালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত চক্ষু চিকিৎসা শিবিরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা রোগীদের পরীক্ষা করে অস্ত্রোপচারের জন্য উপযুক্ত রোগীদের নির্বাচন করেন।
গত ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত ওই ক্যাম্পে রোগী বাছাইয়ের পর নির্বাচিত ৩৬ জনকে ২৯ জুলাই ঢাকায় আনা হয়। পরদিন বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাদের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।
বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) মাসউদুর রহমান বলেন, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য নিয়মিত বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি কুমিল্লাতেও একই ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
তিনি জানান, যেসব রোগীর অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়নি, তাদেরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচার, ওষুধ ও থাকা-খাওয়ার সব ব্যয় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বহন করা হয়েছে।
১৩৩ বার পড়া হয়েছে