সর্বশেষ

সারাদেশ

মোংলায় কোস্ট গার্ড স্টেশনে হামলা: জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা

মাসুদ রানা, মোংলা
মাসুদ রানা, মোংলা

শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬ ৩:২৭ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্টেশনে হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম (সি), পিসিজিএম, পিএসসি, বিএন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সুন্দরবনের নিরাপত্তা, বনদস্যু দমন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মোংলা বন্দরের নিরাপত্তা এবং উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় পরিচালিত ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৩৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪২টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০টি তাজা গোলা, ২৫০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৯৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, একটি ককটেল, একটি টেলিস্কোপ ও দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের কারণে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে জোনাল কমান্ডার বলেন, গত ১৭ মে কুখ্যাত ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীরা আত্মসমর্পণ করেছে। তিনি এখনও সক্রিয় দস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

এদিকে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, অবৈধ মাছ আহরণ ও বন্যপ্রাণী শিকার প্রতিরোধে নৌবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল ও সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রসীমা, উপকূলীয় অঞ্চল ও নদীতীরবর্তী সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আধুনিক ড্রোন ও সার্ভেইল্যান্স প্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

কোস্ট গার্ড জানায়, মোংলা থানার জয়মনির ঘোল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ কারণে সেখানে কোস্ট গার্ড স্টেশন স্থাপন করা হয়। এর ফলে দস্যুদের রসদ ও অস্ত্র সরবরাহের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা কার্যক্রম পরিচালনায় বাধার মুখে পড়ে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ জুন জয়মনির ঘোল এলাকায় অবস্থিত কোস্ট গার্ড স্টেশনে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন কোস্ট গার্ড সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, কোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে দায়িত্ব পালনে নিরুৎসাহিত করতে পারবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব, প্রাকৃতিক সম্পদ ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় ভবিষ্যতেও একই দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

১০৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন