ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠায় চাই ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬ ১১:০৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
যখন আপনার চারপাশে অন্যায় সংঘটিত হচ্ছে, তখন আপনি কেন সেটিকে প্রতিরোধ করতে চান না? এই
প্রশ্নটি কেবল ব্যক্তিগত নৈতিকতা বা সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন নয়; এটি মূলত মানবতার পক্ষে
মানুষের অবস্থান নির্ধারণের প্রশ্ন।
কারণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকা মানে শুধু একটি ঘটনার প্রতি উদাসীন থাকা নয়, বরং পরোক্ষভাবে সেই অন্যায়ের টিকে থাকার পরিবেশ তৈরি করা। সভ্যতার ইতিহাসে মানবিক বিপর্যয়গুলোর পেছনে যতটা না নিষ্ঠুর মানুষের সক্রিয় ভূমিকা ছিল, তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠের নিষ্ক্রিয়তা। জার্মান বংশোদ্ভুত মার্কিন বিজ্ঞানী আইন স্টাইনের (১৮৭৯- ১৯৫৫) বিখ্যাত উক্তিটি এখানে স্মরণযোগ্য, ‘এই পৃথিবী বসবাসের জন্য একটি বিপজ্জনক জায়গা; যারা খারাপ কাজ করে তাদের জন্য নয়, বরং যারা খারাপ কাজের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয় না তাদের জন্য’। অনেক সময় নিজেরা আক্রান্ত না হলে, ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হলে কিংবা বিপদ আমাদের দরজায় এসে না দাঁড়ালে আমরা অন্যের কষ্ট, নিপীড়ন বা বঞ্চনার গভীরতা উপলব্ধি করতে পারি না। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এটি এক ধরনের আত্মকেন্দ্রিক অনুভূতিশূন্যতা, যেখানে ব্যক্তি নিজের
নিরাপত্তা, সুবিধা ও স্বার্থের গণ্ডির বাইরে দেখতে শেখে না। ফলে সমাজের অন্য কারো ওপর নির্যাতন
নেমে এলে সেটিকে সে নিজের সমস্যা বলে মনে করে না। এই প্রবণতা ধীরে ধীরে নাগরিক চেতনাকে দুর্বল
করে দেয় এবং মানুষকে এমন এক মানসিক অবস্থায় নিয়ে যায়, যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়,
বরং নীরবতাই নিরাপদ কৌশল হিসেবে বিবেচিত হয়।
আমাদের মনে রাখতে হবে যে, এই নীরবতা কখনোই নিরপেক্ষ নয়। সমাজবিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, যখন
একটি সমাজে মানুষ বারবার অন্যায় প্রত্যক্ষ করেও প্রতিক্রিয়া জানায় না, তখন সেই সমাজে অন্যায়
একটি ‘স্বাভাবিক সামাজিক বাস্তবতা’ হিসেবে জায়গা করে নেয়। ধর্ষণ, হত্যা, রাহাজানি, চাঁদাবাজি,
জবরদখল, ঘুষ বা দুর্নীতির মতো অপরাধগুলো তখন বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকে না; বরং এগুলো ধীরে ধীরে একটি
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে রূপ নেয়। আর সেটাই হয়েছে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। ভাষাতাত্ত্বিকভাবেও
লক্ষ্য করা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কোনো অনৈতিক আচরণ চলতে থাকলে মানুষ সেটিকে আর ‘অপরাধ’ মনে
করে না, বরং ‘এটাই বাস্তবতা’, ‘এভাবেই চলে’, ‘এটাই নিয়ম’ কিংবা ‘কিছু করার নেই’- এ ধরনের
অভিব্যক্তিতে তাকে বৈধতা দিতে শুরু করে। অর্থাৎ অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি শুধু রাষ্ট্রীয় কাঠামোকেই নয়,
মানুষের ভাষা, চিন্তা ও নৈতিক বোধকেও দূষিত করে। অথচ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, কোনো সমাজ একদিনে
অমানবিক হয়ে ওঠে না। অন্যায়কারীর শক্তি যতটা ভয়ংকর, তার চেয়েও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে সাধারণ
মানুষের দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা। জার্মান দার্শনিক হান্না আরেন্ট (১৯০৬-১৯৭৫) তাঁর ‘খারাপের
স্বাভাবিকতা’ (ব্যানালিটি অব ইভিল) ধারণায় দেখিয়েছিলেন, ভয়াবহ অন্যায় অনেক সময় কেবল নিষ্ঠুর
ব্যক্তিদের কারণে নয়, বরং সাধারণ মানুষের অভ্যস্ত উদাসীনতার কারণেও বিস্তার লাভ করে। মানুষ
যখন অন্যায়ের দৃশ্য দেখে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন বিবেক ধীরে ধীরে অসাড় হয়ে পড়ে। ফলে সমাজে
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার নৈতিক সাহস হারিয়ে যায়, আর নীরবতা একসময় সামাজিক
অভ্যাসে পরিণত হয়।
ভয়ানক বা নৃশংস কোনো কাজ (মন্দ) করার জন্য সবসময় চরম নিষ্ঠুর বা দানবীয় মানসিকতার প্রয়োজন
হয় না; বরং সাধারণ মানুষ যখন সমাজ বা রাষ্ট্রের চাপে, অন্ধভাবে কোনো মতাদর্শ অনুসরণ করে বা
কেবল;নিজের দায়িত্ব পালন করছি; মনে করে সরকারি নিয়মকানুন মেনে কাজ করে, তখন তারা অজান্তেই ভয়ানক অপরাধ বা মন্দ কাজের অংশ হয়ে পড়ে। এ কারণেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ কেবল রাজনৈতিক
বা আইনগত প্রয়োজন নয়; এটি একটি সমাজের নৈতিক সুস্থতা রক্ষার পূর্বশর্ত। যে সমাজে মানুষ অন্যের
নিরাপত্তা, সম্মান ও ন্যায়ের প্রশ্নে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে শেখে না, সেই সমাজে শেষ পর্যন্ত কেউই
নিরাপদ থাকে না। কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি কখনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা ধীরে ধীরে পুরো রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থাকে গ্রাস করে ফেলে। আপনার চোখের সামনেই যদি অন্যায় ঘটে, আর আপনি নিশ্চুপ থাকেন, তবে তা শুধু ব্যক্তিগত নৈতিক ব্যর্থতার পরিচায়ক নয়; বরং তা মানবজীবনের মর্যাদা, ন্যায়বোধ এবং সভ্যতার মৌলিক মূল্যবোধের প্রতিও এক ধরনের অবমাননা। কারণ মানুষ কেবল নিজের জন্য বেঁচে থাকা একটি স্বার্থান্ধ সত্তা নয়; মানুষ সামাজিক, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ববোধসম্পন্ন একটি সত্তা, যার অস্তিত্ব অন্য মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই অন্যের ওপর সংঘটিত অন্যায়ের প্রতি উদাসীন থাকা মানে শেষ পর্যন্ত নিজের মানবিক সত্তাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করা।
নিঃস্বার্থভাবে অন্যের পক্ষে দাঁড়ানোর এই অনীহা সমাজে ধীরে ধীরে এক ধরনের ‘মৌন সম্মতির সংস্কৃতি’
তৈরি করে। তখন অপরাধীরা বুঝে যায় যে সমাজ তাদের প্রতিরোধ করার মতো নৈতিক সাহস হারিয়ে
ফেলেছে। ফলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে, আর নির্যাতিত মানুষ আরও নিঃসহায়, একাকী ও
নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, যখন কোনো সমাজে নাগরিক প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে যায়,
তখন ক্ষমতার অপব্যবহার, সহিংসতা ও দমনমূলক আচরণ দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। কারণ
অন্যায়কারীরা সবসময় কেবল আইনের দুর্বলতাকে নয়, মানুষের নীরবতাকেও নিজেদের শক্তি হিসেবে
ব্যবহার করে। আপনি যদি মনে করেন ‘এটা আমার সমস্যা নয়’, ‘আমার কিছু এসে যায় না’- তবে সেটি কেবল
একটি আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে আত্মবিনাশী এক সামাজিক ভুল। ইতিহাস বারবার
দেখিয়েছে, অন্যায় কখনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। আজ যে অন্যায় অন্যের
ঘরে প্রবেশ করেছে, কাল সেটি আপনার দরজাতেও কড়া নাড়তে পারে। আর তখন যদি সমাজের সবাই একই
যুক্তিতে নীরব থাকে, তবে আপনার বিপদের সময়ও আপনি কাউকে পাশে পাবেন না। জার্মান ধর্মযাজক ও
কবি মার্টিন নিমোলারের (১৮৯২-১৯৮৪) বহুল উদ্ধৃত ‘ওরা প্রথমত এসেছিল’ কবিতাটির সতর্কবানী,
‘যখন ওরা প্রথমে কমিউনিস্টদের জন্য এসেছিল, আমি কোনো কথা বলিনি,/ কারণ, আমি কমিউনিস্ট
নই।/... শেষবার ওরা ফিরে এলো আমাকে ধরে নিয়ে যেতে,/ আমার পক্ষে কেউ কোন কথা বলল না,/ কারণ,
কথা বলার মত তখন আরকেউ বেঁচে ছিল না’। মূলত কবিতাটি এই ভয়াবহ সামাজিক বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করে; যেখানে ধারাবাহিক নীরবতা একসময় সবাইকে অরক্ষিত করে তোলে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকা মানে অনেক সময় প্রত্যক্ষভাবে নয়, কিন্তু পরোক্ষভাবে অন্যায়ের পক্ষেই অবস্থান নেওয়া। কারণ অপরাধ তখনই বিস্তার লাভ করে, যখন তা প্রতিরোধহীন পরিবেশ পায়।
সমাজবিজ্ঞানে এটিকে ‘বিচ্যুতির স্বাভাবিকীকরণ’ (নরমালাইজেশন অফ ডেভিয়েন্স) বলা হয়। আগেই
উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা অনিয়ম ও অপরাধকে সহ্য করতে করতে মানুষ সেটিকে
স্বাভাবিক বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিতে শুরু করে। তখন খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি, ঘুষ, দুর্নীতি, জবরদখল,
চাঁদাবাজি কিংবা সহিংসতা আর ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হয় না; বরং সেগুলোকে জীবনের চলমান বাস্তবতা
হিসেবে মেনে নেওয়া হয়। এই মানসিকতা শুধু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে না, বরং নাগরিকদের
বিবেক, সাহস ও ন্যায়বোধকেও ধ্বংস করে দেয়। এ কারণেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা
কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্ন নয়; এটি একটি সুস্থ, স্বাভাবিক, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ নির্মাণের
অপরিহার্য পূর্বশর্ত। যে সমাজে মানুষ অন্যের দুঃখে নীরব থাকে, সেখানে শেষ পর্যন্ত কেউই নিরাপদ
থাকে না। কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি একসময় সীমানা মানে না; তা ধীরে ধীরে গোটা সমাজব্যবস্থাকে
গ্রাস করে নেয় এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে এমন এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়, যেখানে মানুষের জান,
মাল ও সম্মান কোনোটিই আর নিরাপত্তা থাকে না।
সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের একার
দায়িত্ব নয়; এটি সমাজের সামগ্রিক নৈতিক সুস্থতা ও মানবিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি সম্মিলিত
সামাজিক কর্তব্য। কারণ ন্যায়বিচার কেবল আদালতের রায়ে প্রতিষ্ঠিত হয় না; এটি প্রতিষ্ঠিত হয়
মানুষের বিবেক, সামাজিক সংহতি, পারস্পরিক দায়বদ্ধতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধের
মধ্য দিয়ে। সত্য ও ন্যায়ের ধারণা তখনই জীবন্ত থাকে, যখন একটি সমাজের মানুষ সম্মিলিতভাবে তা
ধারণ করে, লালন করে এবং প্রয়োজনে তা রক্ষার জন্য সাহসিকতার সঙ্গে দাঁড়ায়। অন্যথায় ন্যায়বিচার
কেবল সংবিধানের ভাষায় সীমাবদ্ধ থাকে, বাস্তব জীবনে তার প্রতিফলন ঘটে না। কিন্তু
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের সমাজে ক্রমশ এমন এক মানসিক ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি হচ্ছে,
যেখানে মানুষ একই শহরে, একই মহল্লায়, এমনকি একই কর্মস্থলে বসবাস ও কাজ করেও একে অপরের
জীবন, কষ্ট ও নিরাপত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। আমরা শারীরিকভাবে পাশাপাশি অবস্থান করলেও
মানসিক ও মানবিকভাবে যেন আলাদা দ্বীপে বসবাস করছি। সমাজবিজ্ঞানীরা এই অবস্থাকে ‘সামাজিক
খণ্ডীকরণ’ (সোশ্যাল অ্যাটোমাইজেশন) হিসেবে ব্যাখ্যা করেন যেখানে ব্যক্তি ধীরে ধীরে বৃহত্তর
সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে শুধুমাত্র ব্যক্তিস্বার্থ ও আত্মরক্ষার সীমাবদ্ধ
গণ্ডিতে আবদ্ধ হয়ে পড়ে।
এই মানসিকতার সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রকাশ ঘটে তখন, যখন আমরা অন্যের দুর্দশাকে শুধুই ‘তার
ব্যক্তিগত সমস্যা’ হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করি। ‘ওর সমস্যা, ওকেই সমাধান করতে হবে’ এই চিন্তা
আপাতদৃষ্টিতে নিরপেক্ষ মনে হলেও বাস্তবে এটি সামাজিক সহমর্মিতা ও মানবিক সংহতির ভিত্তিকে
দুর্বল করে দেয়। কারণ একটি সমাজ তখনই সুস্থ থাকে, যখন সেখানে মানুষ পরস্পরের নিরাপত্তা,
অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে নৈতিকভাবে সংযুক্ত থাকে। অন্যের প্রতি দায়বদ্ধতা হারিয়ে গেলে সমাজ
কেবল ভৌগোলিকভাবে একত্রে বসবাসকারী মানুষের সমষ্টিতে পরিণত হয়। সেখানে মানবিক সম্পর্ক,
আস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে। মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা যায়,
দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তি যদি কেবল নিজের নিরাপত্তা ও সুবিধাকেই কেন্দ্র করে চিন্তা করতে অভ্যস্ত হয়ে
পড়ে, তবে তার সহানুভূতিশীল সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা ক্ষীণ হতে থাকে। তখন অন্যের কষ্ট, বঞ্চনা কিংবা
নির্যাতনের খবর তাকে আর নাড়া দেয় না। এই অনুভূতিহীনতা একসময় সামাজিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে
দাঁড়ায়। ফলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অপরাধীরা বুঝতে পারে যে সমাজ
আর নৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ নেই।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যে সমাজে নাগরিকদের পারস্পরিক আস্থা ও
সামাজিক সংহতি দুর্বল হয়ে পড়ে, সেখানে আইনের শাসনও দীর্ঘস্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।
কারণ আইন কেবল রাষ্ট্রীয় শক্তির মাধ্যমে টিকে থাকে না; এটি টিকে থাকে নাগরিক সমাজের নৈতিক
সমর্থন ও সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর। মানুষ যদি অন্যায়ের বিরুদ্ধে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো বন্ধ করে
দেয়, তবে বিচারহীনতার সংস্কৃতি খুব দ্রুত সমাজের গভীরে শেকড় গেঁড়ে বসে। তখন দুর্নীতি, জবরদখল,
চাঁদাবাজি, সহিংসতা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারকে প্রতিরোধ করার মতো সামাজিক শক্তিও দুর্বল হয়ে
পড়ে। এ কারণেই সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোকে কেবল ব্যক্তিগত নৈতিকতার প্রশ্ন হিসেবে দেখলে
চলবে না; এটিকে সামাজিক অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন হিসেবেও দেখতে হবে। একটি মানবিক রাষ্ট্র ও
ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে মানুষকে আবারও পারস্পরিক দায়বদ্ধতা, সহমর্মিতা এবং সম্মিলিত
প্রতিরোধের সংস্কৃতিতে ফিরে যেতে হবে। কারণ মানুষ যখন শুধু ‘আমি’র মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন
সমাজ দুর্বল হয়; কিন্তু মানুষ যখন ‘আমরা’ হয়ে উঠতে শেখে, তখনই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বাস্তব
ভিত্তি তৈরি হয়। এখানেই প্রাচীন আফ্রিকান মানবতাবাদী ‘উবুন্তু’ দর্শন কিংবা ইসলামী ভাতৃত্ববোধের
‘উম্মা’ ধারণার প্রায়োগিক উপযোগিতা প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
আমরা প্রতিদিন গণপরিবহনে যাতায়াত করি, কর্মস্থলে যাই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস করি, বাজারে যাই
কিংবা সামাজিক নানা পরিসরে মানুষের সঙ্গে মিশি। কিন্তু এই প্রতিদিনের জীবনযাত্রার মধ্যেই যখন দেখি
কোনো নারী প্রকাশ্যে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, কোনো সহকর্মী ক্ষমতার অপব্যবহার বা বৈষম্যের
মুখোমুখি হচ্ছেন, কিংবা কোনো ছাত্র বা ছাত্রী নিপীড়ন, অপমান বা অবিচারের শিকার হচ্ছে তখন
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা নীরব থাকি। আমরা চোখ ফিরিয়ে নিই, নিজেকে গুটিয়ে নিই এবং মনে মনে ভাবি,
‘এই বিষয়ে কথা বললে আমারই বিপদ হতে পারে’ কিংবা ‘খামোখা ভেজালে জড়ানোর দরকার নেই’। এই ভয়,
আত্মরক্ষার প্রবণতা এবং সামাজিক নিষ্ক্রিয়তাই ধীরে ধীরে অন্যায়ের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ
তৈরি করে দেয়। বাস্তবতা হলো, অন্যায় কখনো একা শক্তিশালী হয় না; মানুষের নীরবতাই তাকে শক্তি
জোগায়। অপরাধীরা তখনই বেপরোয়া হয়ে ওঠে, যখন তারা বুঝতে পারে যে আশপাশের মানুষ প্রতিবাদ করার
নৈতিক সাহস হারিয়ে ফেলেছে। সমাজ-মনোবিজ্ঞানে ‘নিস্ক্রিয় দর্শকের প্রভাব’ (বাইস্ট্যান্ডার ইফেক্ট)
নামে পরিচিত একটি ধারণা রয়েছে, যেখানে বহু মানুষ কোনো অন্যায় বা দুর্ঘটনা প্রত্যক্ষ করলেও
প্রত্যেকে ধরে নেয় অন্য কেউ হয়তো প্রতিবাদ করবে বা সাহায্য করবে। ফলত শেষ পর্যন্ত কেউই এগিয়ে
আসে না। এই মানসিকতা কেবল ব্যক্তিগত কাপুরুষতার প্রকাশ নয়; এটি ধীরে ধীরে একটি সমাজের নৈতিক
অবক্ষয়ের লক্ষণে পরিণত হয়।
বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আমরা অনেক সময় নীরব থাকাকে নিরাপত্তার কৌশল হিসেবে দেখি।
মনে করি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা না বললে হয়তো নিজেকে ঝুঁকি থেকে দূরে রাখা যাবে। কিন্তু ইতিহাস ও
সামাজিক বাস্তবতা বারবার প্রমাণ করেছে, অন্যায়ের সামনে নীরব থাকা কখনোই দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা
নিশ্চিত করে না। বরং বিচারহীনতা যখন সমাজে প্রতিষ্ঠা পায়, তখন তা ক্রমে সবার জীবনেই অনিশ্চয়তা
তৈরি করে। আজ যে নারী হয়রানির শিকার হচ্ছেন, কাল সেই ভয় আপনার পরিবারের নারীর দিকেও ফিরে
আসতে পারে। আজ যে সহকর্মী অন্যায়ের শিকার হচ্ছেন, কাল সেই অবিচার আপনার কর্মজীবনকেও গ্রাস
করতে পারে। আজ যে শিক্ষার্থী নিপীড়িত হচ্ছে, আগামীকাল আপনার সন্তানও একই বাস্তবতার মুখোমুখি
হতে পারে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য হলো, যে সমাজে মানুষ
অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে দাঁড়ায় না, সেখানে আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অপরাধ ধীরে ধীরে
প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়। কারণ আইন শুধু আদালত বা প্রশাসনের মাধ্যমে কার্যকর হয় না; এর
কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে নাগরিকদের অধিকারের দাবীতে নৈতিক অংশগ্রহণের ওপর। মানুষ
যদি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়, তবে দুর্বৃত্ত, দুর্নীতিবাজ ও
ক্ষমতালোভীরা সহজেই সমাজের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে নেয়। তখন ভয় ও নীরবতা নাগরিক জীবনের স্থায়ী
সংস্কৃতিতে পরিণত হয়।
এর চেয়েও ভয়াবহ হলো, নীরবতার এই সংস্কৃতি ধীরে ধীরে মানুষের বিবেককে অসাড় করে দেয়। সাহিত্য ও
দর্শনের বহু আলোচনায় দেখা যায়, মানুষ যখন বারবার অন্যায় দেখে কিন্তু প্রতিক্রিয়া জানায় না, তখন
একসময় তার ভেতরের মানবিক প্রতিরোধ-ক্ষমতাও ক্ষয়ে যেতে থাকে। ফলে অন্যায়ের দৃশ্য আর তাকে
নাড়া দেয় না; বরং সেটি ‘স্বাভাবিক বাস্তবতা’ বলে তার কাছে মনে হতে শুরু করে। এভাবেই একটি সমাজ
ধীরে ধীরে মানবিকতা ও নৈতিক শক্তি হারায়। অতএব, নীরব দর্শক হয়ে থাকা কখনোই সামাজিক ও
রাষ্ট্রীয় পরিমন্ডলে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না। বরং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সক্রিয় অবস্থান নেওয়াই
দীর্ঘমেয়াদে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র কার্যকর পথ। একটি মানবিক
সমাজ গড়ে ওঠে তখনই, যখন মানুষ নিজের স্বার্থের গণ্ডি অতিক্রম করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে
সম্মিলিতভাবে দাঁড়াতে শেখে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ন্যায়বিচার কেবল আদালতের কাঠগড়ায়
প্রতিষ্ঠিত হয় না; এটি প্রতিষ্ঠিত হয় মানুষের সাহস, সংহতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন নৈতিক
অবস্থানের মধ্য দিয়ে।
এই বাস্তবতায় আমাদের প্রত্যেকের মৌলিক কর্তব্য হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। যেখানে
সরকার, রাষ্ট্র যন্ত্র ও গণমাধ্যম নীরব, সেখানেও আমাদের উচিত নির্যাতিত, নিপীড়িত ও বঞ্চিত
মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠা। কারণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা কেবল সাহসের প্রকাশ নয়; এটি
মানবিক বিবেকের সক্রিয় উপস্থিতির প্রমাণ এবং নৈতিক বোধের সুস্পষ্ট প্রতিফলন। ঘর,
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ, কর্মক্ষেত্র কিংবা জনপথ সমাজের যেখানেই অন্যায়,
বৈষম্য, নিপীড়ন বা ক্ষমতার অপব্যবহার দেখা যাবে, সেখানেই দায়িত্ব এড়িয়ে না গিয়ে নৈতিক অবস্থান
নেওয়া নাগরিক হিসেবে আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা শুধু আদালত, বিচারক বা
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একক দায়িত্ব নয়; এটি সমাজে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের প্রতিদিনের নৈতিক,
মানবিক ও সামাজিক দায়। প্রতিবাদ মানেই সবসময় সংঘর্ষ, সহিংসতা বা উচ্চকণ্ঠ স্লোগান নয়। অনেক
সময় একটি যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন, একটি দৃঢ় আপত্তি, একটি সহমর্মী অবস্থান কিংবা নির্যাতিত মানুষের
পাশে দাঁড়ানোর সাহসও বড় ধরনের প্রতিরোধে পরিণত হতে পারে। কারণ অন্যায়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো
ভুক্তভোগীকে একা করে দেওয়া। যখন কোনো নিপীড়িত মানুষ অনুভব করে যে সমাজে অন্তত কেউ তার পাশে
দাঁড়িয়েছে, তখন সেটি শুধু মানসিক সাহসই জোগায় না; বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে
তোলার পথও তৈরি করে। অন্যদিকে অপরাধীরা সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে তখনই, যখন তারা বুঝতে
পারে যে মানুষ ভয়, স্বার্থ কিংবা উদাসীনতার কারণে মুখ খুলতে রাজি নয়।
সামষ্টিক কল্যাণ, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে এখানেই
সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তির গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। সমালোচনামূলক চিন্তা মানুষকে কেবল তথ্য গ্রহণ
করতে শেখায় না; বরং তথ্যকে যাচাই করতে, ক্ষমতাকে প্রশ্ন করতে, প্রচলিত অন্যায়কে বিশ্লেষণ
করতে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয় করতে শেখায়। এই চিন্তাশক্তিই মানুষকে শেখায় কীভাবে
অন্যায়ের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ক্ষমতার কাঠামোকে চিহ্নিত করতে হয়, কীভাবে প্রভাবিত জনমতের
বিপরীতে দাঁড়িয়ে সত্য উচ্চারণ করতে হয়, এবং কীভাবে যুক্তি, নৈতিকতা ও মানবিকতার ভিত্তিতে
সামাজিক অবস্থান গড়ে তুলতে হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও দর্শনের আলোচনায় বারবার বলা হয়েছে, গণতন্ত্র
কেবল অংশগ্রহণমূলক ভোটের ব্যবস্থার নাম নয়; এটি মূলত সচেতন, সমালোচনামূলক ও দায়িত্বশীল
নাগরিক গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া। যে সমাজে মানুষ প্রশ্ন করতে ভয় পায়, সেখানে ধীরে ধীরে অন্ধ আনুগত্য,
গুজবনির্ভর আবেগ, দলীয় বিভাজন এবং ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তখন সত্যকে বিকৃত
করা সহজ হয়, অন্যায়কে বৈধতা দেওয়া সহজ হয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহারও স্বাভাবিক বাস্তবতায়
পরিণত হয়। ভাষাতাত্ত্বিকভাবেও দেখা যায়, যখন সমাজে সমালোচনামূলক বোধ দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন
ভাষা ধীরে ধীরে সত্য প্রকাশের মাধ্যম না হয়ে প্রচারণা ও বিভ্রান্তির হাতিয়ারে পরিণত হয়। ফলে মানুষ
বাস্তবতা বিশ্লেষণ না করে স্লোগান, গুজব বা আবেগের দ্বারা পরিচালিত হতে শুরু করে। কিন্তু আমাদের
মনে রাখতে হবে যে, একটি সুস্থ সমাজ টিকে থাকে যুক্তিবোধ, নৈতিকতা ও মানবিক সংবেদনশীলতার ওপর।
সমালোচনামূলক বোধ মানুষকে শুধু প্রতিবাদী করে না; বরং তার বুদ্ধি ও উপলব্ধিকে শাণিত করে, তাকে
দায়িত্বশীল, সচেতন ও মানবিক নাগরিক হিসেবেও গড়ে তোলে। এই বোধই মানুষকে শেখায় যে ন্যায়বিচার
কেবল নিজের জন্য দাবি করার বিষয় নয়; বরং অন্যের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নেও দৃঢ় অবস্থান
নেওয়ার নাম। কারণ ব্যক্তি যখন কেবল নিজের নিরাপত্তা নিয়েই চিন্তা করে, তখন সমাজ দুর্বল হয়ে
পড়ে; কিন্তু মানুষ যখন সম্মিলিত ন্যায়ের প্রশ্নে একত্রিত হয়, তখনই একটি শক্তিশালী নাগরিক
সমাজের জন্ম হয় যা একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে। তাই সমাজে ন্যায়বিচার
প্রতিষ্ঠার এই সংগ্রামে একা থাকলে চলবে না। আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে সচেতন হতে হবে,
সংগঠিত হতে হবে এবং সাহসিকতার সঙ্গে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। ইতিহাসের প্রতিটি
ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে ছিল কিছু সাহসী মানুষের দৃঢ় নৈতিক অবস্থান, যারা ভয়, নিপীড়ন কিংবা
সামাজিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করেনি। দাসপ্রথা বিলোপ থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক অধিকার
প্রতিষ্ঠা, ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম থেকে নাগরিক স্বাধীনতার আন্দোলন সব ক্ষেত্রেই
পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল কিছু মানুষের আপসহীন প্রতিবাদ ও নৈতিক সাহসের মাধ্যমে দুর্বার প্রতিরোধ
গড়ে তোলার মাধ্যমে। একথা সত্য যে, যেখানে ন্যায়ের পক্ষে কেউ দাঁড়ায় না, সেখানেই অন্যায় রাজত্ব
করে। কিন্তু যেখানে একজনের কণ্ঠে অন্য দশজনের নীরবতা ভাঙতে শুরু করে, সেখানেই পরিবর্তনের সূচনা
ঘটে। সমাজ তখনই বদলায়, যখন মানুষ ভয়কে অতিক্রম করে সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে শেখে। তাই ন্যায়,
মানবতা ও সহমর্মিতার পক্ষে দাঁড়ানো কেবল একটি নৈতিক পছন্দ নয়; এটি প্রকৃত অর্থে মানুষ হয়ে
ওঠার অন্যতম প্রধান শর্ত। কারণ যে সমাজে মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে শেখে, সেই সমাজই শেষ
পর্যন্ত ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র নির্মাণে সক্ষম হয়। তাই ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার
মাধ্যমে স্বৈরাচারহীন কল্যাণমুখী রাষ্ট্রবির্নিমাণই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
লেখক : ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি, ইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটন, যুক্তরাজ্য।
১৩৮ বার পড়া হয়েছে