ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ ঘিরে আলোচনা ও বিতর্ক
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬ ১০:৩০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) পদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস ছিদ্দিকীর নিয়োগকে কেন্দ্র করে দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৯ জুন জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে আগামী চার বছরের জন্য এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ড. ইলিয়াস ছিদ্দিকী এর আগে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন এবং ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি অতীতে মুজিববর্ষ উপলক্ষে “ইসলাম ও মানবতার সেবায় বঙ্গবন্ধু” শীর্ষক একটি গবেষণাধর্মী গ্রন্থ রচনা করেন, যা শিক্ষাঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়। বইটিতে তৎকালীন বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের মতামতও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এছাড়া বইটির উৎসর্গপত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছা মুজিবসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে নিহতদের স্মরণ করা হয় এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য কামনা করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
নিয়োগের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি অংশ এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সমালোচকদের মতে, অতীত প্রশাসনিক ভূমিকা ও রাজনৈতিক সময়ের কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়োগটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায় বা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২২ সালে উপাচার্য নিয়োগের সময় ড. ইলিয়াস ছিদ্দিকীর পক্ষে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও সুপারিশের বিষয়েও আলোচনা ছিল, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের নিয়োগ শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয় বরং রাজনৈতিক বার্তাও বহন করতে পারে। ফলে নিয়োগটি শিক্ষা প্রশাসন ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে সমালোচকদের একটি অংশ মনে করেন, প্রশাসনিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র যোগ্যতা নয়, বরং রাজনৈতিক বাস্তবতা ও অতীত ভূমিকার দিকটিও বিবেচনায় রাখা উচিত।
সব মিলিয়ে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নিয়োগ দেশের উচ্চশিক্ষা প্রশাসন, নীতি নির্ধারণ এবং রাজনৈতিক পরিসরে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
১২১ বার পড়া হয়েছে