কক্সবাজারে মানবপাচার চক্রের অন্যতম হোতা লেইঙ্গা সৈয়দ আটক
মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬ ৩:০৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম মূলহোতা হিসেবে পরিচিত টেকনাফের বাহারছড়া নোয়াখালী কচ্ছপিয়া এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দুল হক ওরফে লেইঙ্গা সৈয়দকে আটক করেছে রামু থানা পুলিশ।
সোমবার কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের কমুনিয়া এলাকায় অবস্থিত তার দ্বিতীয় বাড়িতে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় পুলিশ পুরো বাড়ি ঘিরে রাখে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযানের সময় বাড়িতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বাড়ির ভেতর থেকে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার সংক্রান্ত চুক্তিপত্র, একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, আটক ছৈয়দুল হকের বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মানবপাচার মামলা রয়েছে। এছাড়া দেশি-বিদেশি অপরাধী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে ছৈয়দুল হকের বিরুদ্ধে। মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়, এমনকি হত্যা ও গুমের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও লেইঙ্গা সৈয়দের নামে এলাকায় একাধিক বাড়ি ও বিপুল সম্পদের মালিকানা রয়েছে। তার বাড়ির চারপাশে অসংখ্য সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল এবং বিভিন্ন সময় বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার মালয়েশিয়ায় পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, তার বাড়িতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির যাতায়াত ছিল। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিনের অভিযোগের পর পরিচালিত এই অভিযানকে মানবপাচারবিরোধী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
১৪৪ বার পড়া হয়েছে