সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে মাদক ব্যবসা: ১৮৫ ইয়াবাসহ র্যাবের হাতে আটক
রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬ ৫:২৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় ১৮৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছেন মো. সামাদ খান (৪১)। র্যাবের দাবি, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
র্যাব-১০ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (৬ জুন) রাতে ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি দল মধুখালী উপজেলার মধুপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে সামাদ খানকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে ১৮৫ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সামাদ সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই মাদক সংশ্লিষ্টসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে।
র্যাব-১০ ফরিদপুর ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার তপন কর্মকার জানান, অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি সাংবাদিক পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। তিনি নিজেকে একটি পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিলেও তার পেশাগত কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বলে র্যাবের দাবি।
মধুখালী থানার ওসি সুকদেব রায় বলেন, র্যাব আটক ব্যক্তিকে ইয়াবাসহ থানায় হস্তান্তর করেছে। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুরনো নথি অনুযায়ী, সামাদের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, ফেন্সিডিল, বিদেশি মদ এবং যৌন উত্তেজক বড়ি উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। ওই সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ছদ্মবেশ ধারণের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি পুলিশের মনোগ্রামযুক্ত পোশাক ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায় শ্যালিকাকে অপহরণের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে ওঠে বলে জানা যায়।
স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, একসময় মাদক মামলায় জড়িত থাকার পর নিজের পরিচয় পরিবর্তনের চেষ্টা হিসেবে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হন এবং একটি পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেন। পরে অবশ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়।
মধুখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুজ্জামান মুন্নু বলেন, সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি কোনো প্রেসক্লাবের সদস্য নন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, সাংবাদিকতা কখনোই অপরাধীদের আশ্রয় হতে পারে না। এ ধরনের ঘটনায় পরিচয়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই প্রয়োজন।
স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশের মতে, কিছু ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনিক নজরদারি এড়িয়ে প্রভাব বিস্তার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করে, যা প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্যও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
র্যাব জানায়, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
১৪৫ বার পড়া হয়েছে